Saturday, March 7, 2015

অন্য বসন্ত কণ্ঠস্বর



কোনও একটা লেখা যদি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়, তার থেকে আনন্দের বিষয় আর কিছু হয়না একজন লেখকের কাছে। “অন্য বসন্ত” নামের একটা ব্লগ এই কদিন আগেই লিখেছি। সেটা অনেক মানুষেরই মনে দাগ কেটেছে। লেখাটার উপর অনেকের কমেন্ট শুনে বেশ খুশিই হলাম। কিন্তু তখনও ভাবতে পারিনি লেখাটা পরিণত হবে শ্রবণীয় শব্দের সমষ্টিতে। সেদিন সন্ধ্যায় হঠাতই আমার এক বন্ধু সায়নী এরকমই কিছুর একটার আঁচ দিয়েছিলো। সেদিনই রাত্রে অভ্রজিৎ নামের আমার আরেক বন্ধু একটা ভিডিও পাঠাল ফেসবুকে। ভিডিওটা দেখেই লাফিয়ে উঠলাম। আরে! এটাতো সেই “অন্য বসন্ত”র অডিও রেকর্ডিং। দেখলাম উপরে কভারে বড়ো বড়ো করে আমার নাম আর ছবি দেওয়া। আর লেখাটা পাঠ হচ্ছে অভ্রজিৎ-এর কণ্ঠে। তারপর ভিডিওটা অভ্রকে বলে একটু এডিট করালাম। ওখানে অভ্র আর সায়নী, দুজনের নামটাও যোগ করা হল। এইভাবেই “অন্য বসন্ত”-কে অলঙ্কারিত করল অভ্রর কণ্ঠস্বর এবং সায়নীর সহযোগিতা। ধন্যবাদ জানিয়ে দুজনকে আমি ছোট করতে চাইনা, ওদের দুজনের জন্য রইল আমার তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
 অভ্রর কণ্ঠস্বরে "অন্য বসন্ত" শুনতে ক্লিক করুন উপরের ভিডিওটিতে।

Friday, March 6, 2015

রূপান্তর

ভর-শক্তির নিত্যতার সূত্রের মতই ভালোবাসারও কখনো অবলুপ্তি ঘটে না, কেবল একজনের থেকে অন্যজনের কাছে রূপান্তরিত হয়...

Thursday, March 5, 2015

অন্য বসন্ত


বসন্ত মানেই আমাদের কাছে ভালোবাসার রঙ। বসন্ত নামটা শুনলেই পলাশের লাল রঙ প্রেমের প্রতীক হয়ে ফুটে ওঠে আমাদের অন্তরে। এমন এক কল্পনার জগতে পাড়ি দিতে ইচ্ছা হয় যেখানে নির্জন কোনো পথের মাঝে হাত ধরে হেঁটে চলে দুই যুবক-যুবতি, আর পথের উপর বিছানা করে শুয়ে থাকে কিছু ঝরে যাওয়া ফুলের পাপড়িরা। বাতাসের মধ্যে ভেসে বেড়ায় আম্রমুকুলের মিষ্টি সৌরভ। সত্যিই খুব রোমাঞ্চ জাগে মনের ভিতর। কিন্তু এই বসন্তের মধ্যেই আমি খুঁজে পাই বিদায়কালের প্রাচীন ভাবনাগুলোকে। যে পাপড়িগুলো আজ রাস্তার বুকে শুয়ে তোমাদের হাঁটার পথের ক্ষতগুলোকে চাপা দিয়েছে আর তাকে সাজিয়ে তুলেছে নতুন এক রঙে, তারা কি আর কোনোদিন ফিরে যেতে পারবে ওই সজ্জিত গাছের ডালে! এভাবেই গাছের ওই ফুলগুলোর জীবনে বসন্ত নেমে এসেছে মৃত্যুর দূত হয়ে। বাংলার ঋতুচক্রেও কিন্তু হাসিকান্না ভরা অনেক অনুভূতির স্মৃতি হয়ে থাকা একটা সুদীর্ঘ বৎসরের বিদায় ঘটে এই বসন্তের মধ্য দিয়েই। আমাদের জীবনেও বসন্ত আসে একরাশ নতুন অনুভূতির মুহূর্ত নিয়ে আর তার মাঝেই আমরা নিজেদের অজান্তে হারিয়ে ফেলি সেই পুরনো দিনের ফেলে আসা অনুভূতিগুলোকে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই বসন্ত আমাদের নাড়া দিয়ে যায় সেই দিনগুলোকে মুছে দেওয়ার জন্য। আর একদম শেষকালে প্রত্যেকের জীবনেই বসন্ত নেমে আসে চিরনিদ্রার প্রতীক হিসাবে তার অস্তিত্বকে মুছে দেওয়ার জন্য। এইতো, আজ বসন্ত এসে গেছে...

Wednesday, March 4, 2015

তুমি নির্ভয়া




মনে পরে সেই দিনটা? ১৬ই ডিসেম্বর ২০১২! ২৩ বছর বয়সি একজন দিদিকে যারা নির্মম ভাবে অত্যাচার করেছিল! শেষকালে জীবন যুদ্ধে হার মানতে হয়েছিল তাঁকে। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, নির্ভয়া বা অভয়া। তাঁর আসল নাম আমরা কেউই জানিনা, নামগুলি টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং সোনি এন্টারটেনমেন্ট টেলিভিশন - এর দেওয়া। সারা দেশ কিন্তু সেদিন নাম না জানা ওই দিদির জন্য ক্ষোভে ফেটে পরেছিল। সবাই দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর পাশে। ব্যাস্ত রাজপথ হয়েছিল সেদিন অচল। দেখতে দেখতে আজ কেটে গেল দু-দুটো বৎসর। অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হল। তারা এই সাজা মেনে না নিয়ে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাল এই রায়কে। এর মাঝে একটা খবর পেলাম, খুব আঁতকে উঠলাম এই খবরটা পেয়ে। মাত্র কয়েকদিন আগে, ওই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত মুকেশ সিং বি.বি.সি নিউজ চ্যানেলে সাক্ষাতকার দিয়েছে। সেখানে সে অনেক কথাই বলেছে এবং সেই মেয়েটিকেই সম্পূর্ণ ঘটনার জন্য দোষারোপ করেছে। সে বলেছে "When being raped, she shouldn't fight back. She should just be silent and allow the rape. Then they'd have dropped her off after 'doing her', and only hit the boy." অর্থাৎ যেটাকে বাংলা করলে দাঁড়ায় মেয়েটির উচিত হয়নি রেপ হওয়ার সময় প্রতিবাদ করার, তার বদলে যদি সে মুখবুজে সব সহ্য করতো তাহলে তাকে করার পর ছেড়ে দেওয়া হত, এবং শুধুমাত্র ছেলেটিকে আঘাত করতো…”। ভাবুন তাহলে একবার! কারোর সঙ্গে যা খুশি তাই করা হবে আর তাকে মুখ বুজে সহ্য করতে হবে?  কিছু বলা যাবে   না! দোষ নাকি মেয়েটার ছিল! এই ঘটনা গুলো শোনার পর মনে হয় এটা এখনকার দিনের মানুষের চিন্তাভাবনা! হাস্যকর ব্যাপারটা হল যিনি নির্যাতিতা, তিনি আজ মৃত আর যারা করল এটা, তারা আজ টেলিভিশনে ইন্টারভিউ দিচ্ছে। সত্যি মাঝেমধ্যে মনে প্রশ্ন ওঠে এটা আমরা কোন দেশে বাস করছি! যদিও শুনলাম এর জন্য ওই নিউজ চ্যানেলের উপর  বিভিন্ন মহল ক্ষুব্ধ  হয়েছে। আগামি ৮-ই মার্চ তার এই বক্তব্য সম্প্রচারিত হবে ওই নিউজ চ্যানেলে। (বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে তা স্থগিত আছে)
তুমি নির্ভয়া হও বা  অভয়া, তোমার পাশে আছি আমরা সবাই। আমরা এই অন্যায়ের দুষিত জীবাণুকে ধুয়ে মুছে সাফ করবই। কারন নাহলে তোমার মতোই অগুন্তি দিদি-বোনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলবে এই অপরাধিরা। সত্যিই তুমি নির্ভয়া