Saturday, April 25, 2015

ভুমিকম্প



গ্রীষ্মের তারায় ঢাকা রাত
কিংবা শীতের কুয়াশা ভরা সকাল,
প্রতিটা মুহূর্তেই তোমার রোমাঞ্চ 
গায়ে কাঁটা দেয় চিরকাল।
বর্ষার ঘোলাটে আলোয়
দৃষ্টি আরও ক্ষীণ হয়ে আসে,
দুচোখের পাতায় নিদ্রা নামে
শীতলতার আভাসে।
নিজের সৌন্দর্য অনুভব করতে গিয়েছিলে বুঝি,
তাই জন্যই আজ রোমাঞ্চে কেপে উঠলে তুমি!
তোমার প্রতিটা কম্পনে তুমি আরও নিষ্ঠুর,
তবুও ভয়ঙ্কর এক সুন্দর প্রকৃতি।

এলোমেলো কিছু শব্দ



বৃষ্টিটা আজ কেমন যেন মনমরা
ঘাসগুলো নির্ভয়ে মাথা তুলে দাড়িয়ে আছে,
মাটির উপর বুটের ছাপ কই?
এতো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যেওনা।
ছাতা মাথায় চলো,
এক বছর আগের মত আবার গিয়ে একটু দাঁড়াই,
দেখবে বৃষ্টিটা আরও শক্তি পাবে,
উড়িয়ে নিয়ে যাবে ছাতাটা,
আবার ভিজব দুজন একসাথে...


সত্যি আজ কত বড় হয়ে গেছি...



তোমার সাথে হেঁটেছিলাম কোনও এক বৃষ্টির দিনে,
অসংখ্য ঘাসের উপর
জমে থাকা জলবিন্দুতে দেখেছিলাম আমাদের প্রতিচ্ছবি...
বৃষ্টির শীতে কাঁপা হাতে শক্ত করে ধরেছিলাম তোমায়,
আর মাথায় দিয়েছিলাম রুমালের ছাউনি।
রেললাইনের পাশ দিয়ে এগিয়েছিলাম
লাইনগুলো আমাদের পেয়ে ভুলে গিয়েছিল চাকার যন্ত্রণা
মাটির সেই সোঁদা গন্ধটা এখনো টানে আমায়,
কিন্তু আজ আমরা কত বড় হয়ে গেলাম
এখন আর যাওয়া হবে না ওই লাইনের পথ ধরে,
একবার দেখ ওখানে গিয়ে,
আমাদের না পেয়ে
কিভাবে দুটো লাইন সমান্তরাল হয়ে অসীমে মিলিয়ে গেছে,
আর চাকার গর্জনে ছটফট করছে...

Monday, April 13, 2015

মৃত্যুর পর প্রিয়জনকে লেখা এক আত্মার চিঠি



শোনো,
নতুন ছোঁয়া পেতে চাইনা আমি, যদি পারো তো ফিরিয়ে দাও সেই পুরনো স্পর্শগুলোকে। যে স্পর্শের প্রতিটি কোশের মধ্যে লেগে আছে রোমাঞ্চ, ভালোবাসা। জানি এটা আর সম্ভব নয়, রিজেক্টেড হয়ে আমি আজ শুয়ে আছি সাদা কাপড়ে সাজানো বিছানার উপর। যদি কখনো মনে পরে তাহলে কাগজে চিঠি লিখে ছুঁড়ে দিও শূন্য আকাশের দিকে, আমি ঠিক পড়ে নেব। যদি কখনো দেখতে ইচ্ছা করে আমায় তাহলে অন্ধকার রাতকে বোলো আরও গভীর হতে। দেখবে সেদিন জোনাকি হয়ে তোমার চারিপাশে উড়ে বেড়াবো, নয়ত আকাশের এক কোনে তারা হয়ে মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে হাসবো। সেদিন ইচ্ছা করলে কথাও বলতে পারো, আমি নীরবে শুনে যাবো কোনও উত্তর না দিয়ে।


                                     ইতি – মৃত এক কণ্ঠ