Wednesday, March 23, 2016

রঙহীন বসন্ত

এই বসন্তের সমস্ত রঙ আমি শরীর থেকে ত্যাগ করে দিয়েছি অন্য স্বপ্নগুলোকে রঙিন করে তোলার জন্য। আজ থেকে প্রত্যেকের জীবনের মুহূর্তগুলো হয়ে উঠুক আরও বেশি রঙিন, আরও বেশি সুন্দর। কিন্তু এই বসন্ত আজ পারবে না আমাকে রঙিন করে তুলতে, কারণ আমার শরীরের গভীরে মিশে আছে অনেক ক্ষতচিহ্ন, অনেক কালো দাগ, সেই দাগ মুহূর্তে শুষে নেবে সমস্ত রঙকে আর উপহার হিসেবে আমাকে ফিরিয়ে দেবে এক শুষ্ক অনুভূতি। প্রতিটা হৃদস্পন্দনে আমার শরীর থেকে বেড়িয়ে আসবে উষ্ণ কিছু নিঃশ্বাস, যারা নিমেষে গ্রাস করে নিতে পারে রঙিন হাতের আদরে জড়ানো আদ্রতাকে। কালারব্লাইন্ড হয়ে চিনে নেবো সাদা আর কালোর দূরত্বকে, সময়ের ব্যাবধানে ধূসর কুয়াশা নেমে আসবে আমার জীবনে সেই দূরত্বকে মুছে ফেলার জন্য। এভাবেই রঙিন স্বপ্নগুলো ঢাকা পড়ে যাবে এক ধূসর চাদরের তলায়, আর প্রস্তুতি নেবে ভবিষ্যতের কোনও এক বসন্ত দিনে আরও একবার মাথা তুলে দাঁড়াবার জন্য। ততদিন আমার এই শরীর রঙহীন হয়ে থাকবে।

Sunday, February 14, 2016

প্রেমতরঙ্গ

এক কুয়াশা ভরা রাতের আলোয় বেড়িয়েছিলাম অসীমে মিলিয়ে যাওয়া পথগুলো হেঁটে দেখার জন্য, কানে হেডফোন লাগিয়ে একা মনে কবিতা বাঁধতে বাঁধতে এগিয়ে চলছিলাম। চারদিক থেকে অট্টহাস্যগুলো আমাকে চেপে ধরেছিল প্রায়, পথের বালি আর ইটের গুড়োগুলো আমার দিকে তাকিয়ে যেন হাসাহাসি করছিলো। প্রেম-ভালোবাসা বড়ই কঠিন একটা রোগ, জীবনে অনেকবার আসে, কিন্তু প্রতিবার যখন চলে যায়, রেখে যায় একটা গভীর ক্ষতচিহ্ন। বছরের পর বছর কেটে যায়, তবু এই চিহ্নগুলো একটুও মেলায় না, কখনও  বা সময়ের ব্যাবধানে আরও গভীর হয়ে ওঠে। না পাওয়া চাহিদাগুলো আরও বেশি করে চেয়ে থাকে এক দৃষ্টিতে, জীবনের সমস্ত রক্তকোষে বিষিয়ে যায়। মানুষের বেঁচে থাকা হয়ে ওঠে আরও  কঠিন। অতীতের শব্দগুলো হানা দেয় আধঘুমে আচ্ছন্ন চোখের কোনায়, স্মৃতিগুলো প্রতি নিয়ত আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। না পাওয়ার ইচ্ছেটা বুকের ভিতরে ঢেউ তুলে দেয় আর সেই ঢেউ ধেয়ে আসে কোনও এক নিঃসঙ্গ নাবিকের দিকে। সবকিছু ছারখার করে চলে যায় আর রেখে যায় আরও একটা নতুন ক্ষতচিহ্ন। সেই চিহ্নগুলোর জ্বালা যন্ত্রণা নিজেকে সামলে উঠতে হয়, কখনও বা ঘুমহীন চোখে কবিতা হয়ে নেমে আসে মাঝরাতে। ধর্মবিজ্ঞানীরা মনে করেন সবই জন্মলগ্নে লেখা, কিন্তু আসলে এই মনই জানে এগুলো চোখের ভুল। সেদিন যদি চোখটা কল্পনা শক্তি দিয়ে না ভাবতো, তাহলে হয়তো এই মায়াবী সম্পর্কগুলো কখনই আকর্ষণ করতো না। তবুও এই পথ পরে থাকে সময়ের দূরবীন সঙ্গে নিয়ে, গতকাল আমরা যে পথে হেঁটেছি, আগামীকাল আমাদের জায়গায় নতুন কোনও যুগলকে দেখবে বলে। হয়তো আজকের মানুষগুলো আগামীকালও হাঁটবে ওই পথে, কিন্তু বদলে যাবে তাদের বন্ডিংগুলো। এভাবে কত ম্যাট্রিক্সের অঙ্ক কষে যায় এই পথ তার হিসেব রাখে নক্ষত্রকুঞ্জের প্রতিটি জ্যোতিষ্ক। আমরা কেবল সময়ের ঢেউয়ে ভেসে আসা অতীতের জীবাশ্ম মাত্র।

Monday, February 8, 2016

টুকরো সিরিজ - ১

আমার শরীরে যত খুশি আঘাত দিও, সব সামলে উঠবো। মনে আঘাত দিয়ো না, আমরণ সেই ব্যথায় ছটফট করে যেতে হবে আমাকে।

টুকরো সিরিজ - ২

যদি কখনো মনে করো আমার আড়ালে আকাশ ছোঁবে, ছুঁতে পারো। আমি প্রতারিত হতে রাজি, তবু বলবো শেষ মুহূর্তে ভেবে দেখো।

Sunday, February 7, 2016

চোরা স্রোত


এই নদীর স্রোত জানে আমার পথের চোরাবালিগুলি কোন সাগরের গহ্বরে লুকোনো আছে। যেখানে গাঙচিল ডানা মেলেছে ওই নীল আকাশ ছাড়িয়ে আর মেঘেদের কোলাহল ঢেকে দিয়েছে সূর্যের আলোকে, সেই অন্ধকারে নেমে এসেছে জোৎস্নার আলো। ক্লান্ত গাঙচিল এখনো ঘরে ফেরেনি......

রাত-বিরাতের অনুভূতি

এই রাতগুলো ভারী নিষ্ঠুর, ঘুমন্ত চোখের পাতায় স্বপ্ন এঁকে চলে যায় আর আলো ছড়িয়ে দেয় বাতাসের অজস্র ধুলিকনার শরীরে। সেগুলো তারা হয়ে ফুটে ওঠে আমার মাঝরাতের ক্যানভাসে, আর তুলি টেনে এঁকে ফেলি এক লম্বা ছায়াপথ।

Sunday, January 17, 2016

সুইসাইড - একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ও বোকামির পরিচয়


ভীষণ আঘাত পাওয়ার পর একজন ঠিক করেছিল এভাবে আর বেঁচে থাকা যায় না, তাই মৃত্যুর আগে নিজের বেস্টফ্রেন্ডকে কিছু কথা শেয়ার করতে গিয়েছিলো কোনও এক বিকেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সুইসাইড করে উঠতে পারেনি সে। তার বন্ধু সেই ডুবন্ত সূর্যের আবছা আলোর মধ্যেও তাকে চিনিয়ে দিয়েছিলো এই পৃথিবীর আসল রূপ।
- জানিস ভাই, আর কিছু ভালো লাগছে না।
- কেন রে? কি হল?
- আর বলিস না, রোজ একই ঝামেলা... আর ভালো লাগে বল!
- তাহলে, কি ভাবছিস এখন?
- ভাবছি আর বেঁচে থেকে লাভ নেই। সবকিছু ছেড়ে চলে যাবো। সবাই শান্তি পাবে তাহলে।
- কিসব বাজে বকিস! চুপ কর তো! এক চিন্তা বারবার। তুই মরলে কি হবে জানিস? এসব আর বলবি না একদম।
- কি আর হবে? সবাই শান্তি পাবে একটু। আমিও এতো কষ্ট পাবো না রোজ রোজ, সবাই ভালো থাকবে।
- তুই চুপ কর! শোন একটা কথা বলি...
- হুম বল।
- দেখ, তুই আজ মরবি ভাবছিস। তোর ধারণা তুই মরলে সবাই শান্তি পাবে। আসলে তুই চাস, ওরা তোকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছে তাই তুইও মরে ওদের বুঝিয়ে দিবি তোর অবদান কতটা। এটা তোর ধারণা, তাই তো?
- হুম রে, কি আর করবো বল। বেঁচে থেকে তো ওদের বোঝাতে পারলাম না, তাই মরে গিয়েই না হয় বুঝিয়ে দেবো রে...
- শোন, এই পৃথিবীতে কেউ কারোর নয়। আজ তুই মরবি ভাবছিস, মর। কালকে দেখবি সবাই খুব কাঁদবে। তোকে খুব মিস করবে। সপ্তাহ শেষে দেখবি সবাই সব ভুলে যাবে। তোর প্রেমিকা এক মাসের মাথায় নতুন প্রেমিক জুটিয়ে নেবে। তোর বাড়ির লোক দু-এক মাসের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে উঠবে আর তোকে ভুলতে শুরু করবে। তোর বন্ধুরাও ঠিক একই ভাবে তোকে ভুলে যাবে। আসতে আসতে তোর বেঁচে থাকা জীবনের সব চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করবে সবাই। বছর ঘুরবে, তোর মৃত্যুদিন পালিত করবে সবাই। ফেসবুকে বড়ো বড়ো স্ট্যাটাস দেবে তোকে উৎসর্গ করে, কেউ কেউ প্রকাশ্যে চোখের জল মুছবে। কিন্তু বিশ্বাস কর, সেদিন আসলে সমাজটা একটা থিয়েটারে পরিনত হবে, চারপাশে যা কিছু দেখা যাবে সবই আসলে নাটক আর লোক দেখানো। আরও কয়েকটা বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর দেখবি সবাই বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছে। তখন তোকে কেউ মনেও রাখেনি, তোর স্মৃতিগুলোতে ধুলো পড়ে সেগুলো পরিনত হচ্ছে ডাস্টবিনে। তোর নাম তখন সবার জীবনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এভাবেই তোর সমস্ত কিছু মুছে যাবে এই পৃথিবী থেকে। তুইও সেদিন মিলিয়ে যাবি অনন্ত আকাশের কোনও একটা কোনায়। সেদিন যদি আকাশের তারা হয়ে এগুলো দেখতে পাস তাহলে তুই সব থেকে বেশি কষ্ট পাবি। হয়তো নিজেকে আরও বেশি করে অপরাধী মনে হবে তোর। তাই কি দরকার এভাবে নিজের বিলুপ্তি নিজে ডেকে এনে? বেঁচে থাক আর এই জীবনটা উপভোগ কর। জীবন তো একবারই আসে বল! এভাবে এটাকে নষ্ট করিস না, সবাই সফল হয় আর তুইও একদিন সফল হবি মিলিয়ে নিস। অনেক বড়ো বড়ো কথা বলে ফেললাম, আমার কথাগুলো একটু ভেবে দেখিস।
- না রে, তুই ঠিকই বলেছিস। মরে গেলে আর কেউই মনে রাখবে না, নিজেকেই কষ্ট দেওয়া। আমি বাঁচবো রে ভাই। নিজের জন্যই না হয় বাঁচবো।