Friday, December 15, 2017

চিঠির হৃদয়

আগুনে জ্বেলো আলো,
বালুচরে পোড়ে জোনাকির অবশেষ,
সমুদ্রের গভীরতা জানে
নীল আকাশের বুকে চন্দ্রিমার নিরুদ্দেশ।
যেখানে লুকিয়ে বাঁচে স্বপ্ন,
বুকের খাঁচায় শুরু, মগজের কোণে শেষ,
তোমাকে না দেওয়া চিঠিটা বলে,
এই তো আছি আমি এভাবেই ভালো বেশ।

Wednesday, December 13, 2017

বুকের আগুন

চল গোলাপ হাতে যুদ্ধ করি,
আগুনটা জ্বলুক বুকে,
অনাহারে যে পেটটা কাঁদছে
অন্ন তুলে দিই তার মুখে।
হিংসা-মৃত্যু-মারামারি করে
লাভটা কি হয় বল?
যে মানুষটা যুদ্ধে জিতছে,
তার চোখেও দেখ জল।

Saturday, December 9, 2017

Locus of mind

A positive minded person will always collect the negative things and multiply them to get a positive result, that's the beauty of life.

Thursday, December 7, 2017

জমা সুখ

শব্দের তির বিঁধছে বুকে
গভীরে জমছে ক্ষত,
জমা কথারা বাড়ছে সুখে
সময় এগোচ্ছে যত।

Wednesday, December 6, 2017

মুহূর্ত

প্রিয় তুমি বোঝো না এ জটিল ধাঁধাঁ,
আমাদের মুহুর্তেরা জন্মসূত্রে বাঁধা।

Saturday, December 2, 2017

আলোর সন্ধান

আমার শহর বিকেল পেড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে,
পথের দুপাশে আলোর মালায় বিজলী বাতি গাঁথে,
এইটুকু দিন আলোর শেষে মোমবাতি জ্বেলে মনে,
মগজ খুঁড়ে তল্লাশি চালাই তোমাকে দেখবো বলে।
জানিনা মনে দেখা হবে কিনা, তবু চোখে হয় দেখা,
শহরে হঠাৎ প্রেম উঁকি দেয়, তুমি কেন এতো একা?
আমাকে বলো গল্প তোমার, শুনবো তোমার সুরে,
রাতেও আছে সূর্যের আলো, চাঁদের আকাশ জুড়ে।

Wednesday, November 29, 2017

জীবন্ত ক্ষত

শীতের আলোয় রোদ কম থাকে
পোশাকে লুকিয়ে ক্ষত,
বয়সের ওজনে কিছু স্মৃতি মরে
বেঁচে ওঠে আরও একশত।

Tuesday, November 28, 2017

জীবন সৈনিক

জীবনের সাথে যুদ্ধ করো,
তবেই তো জীবন দামী,
জীবন যদি সহজই হতো,
কেউই হতো না নামী।
এই যুদ্ধের সৈন্য তুমি,
তোমার বিপরীতে মৃত্যু,
বাঁচার জন্য লড়াই করো,
জীবনকে করো না শত্রু।
ময়দানে তুমি একা নেই আর,
লক্ষ সৈনিক পাশে,
মাঠ ছেড়ে তুমি পালিয়ে যেও না,
মৃত্যু যেন না হাসে।
হারতে হারতেই জিততে শিখবে,
এখন তো হারার বয়স,
শেষ হাসিটা তুমিই হাসবে,
বাকিটুকু তোমার চয়েস।

Monday, November 27, 2017

অন্য সুখ

অমলিন বেঁচে থাকুক তোমার মুখের হাসি,
আমি তো আজ অন্য কাউকে ভালোবাসি।

Sunday, November 26, 2017

কবিতাপ্রেমের মহামারি

নিয়ন আলোর নীচে ভীষণ শীত,
শহরে কবিতাপ্রেমের মহামারি লেগেছে,
আমি তোমায় নিয়ে কিছু লিখতে পারি না,
যতবার লিখবো ভাবি,
কিছু অনুভূতি এসে জমে চোখের নীচে,
এই ঠাণ্ডায় ওরা ভিজতে চায় নীলে,
আজ রাত্রেও কিছু অনুভূতি ভিড় করবে জানি,
স্মৃতি জড়ানো অক্ষরে আবার লিখে দেবো আমার দেওয়ালে,
আমি ঠাণ্ডায় ভয় পাই,
আমি অন্য একদিন ভিজতে চাই।

Friday, November 24, 2017

অস্তিত্ব

আমি থেকে যাবো,
তোমার কপালের ভাঁজে,
অথবা যেখানে স্বপ্নেরা বাঁচে।

Saturday, November 18, 2017

জীবিত অধ্যায়

একটা সময়ে আমরা...
না! থাক্‌ আজকে সেসব কথা,
প্রতিদিন ভোরে রোদ আসে,
কুয়াশারা লেগে থাকে আমার জানলায়,
ঘোলাটে চোখ আর ঝাপসা কাঁচ,
আমাদের চলাফেরা ফোকাল লেন্থেই সীমিত,
আর আমরা... না, থাক্‌ আজকে সেসব কথা!
ভোরের প্রথম আলোয় প্রতিটি রাতই জীবিত।

Friday, November 17, 2017

অর্থহীন শব্দ

আজ কোনও কবিতা নয়
সাজাবো শুধুই শব্দ,
ছন্দ মেলাতে অর্থহীনতায়
কবিরা ভীষণ জব্দ।

Thursday, November 16, 2017

পদচিহ্ন

তোমার বুকে ক্লান্ত মাথায়
কেটে গেছে কত রাত,
আমার স্বপ্নে এখনও তাজা
তোমার পায়ের ছাপ।

Tuesday, November 14, 2017

টাইম অ্যাক্সিস

যে মুহূর্তরা চলে গেছে আমার
বন্দী করতে পারোনি তোমার অন্তরে,
এক্ষুনি ফিরে যাও শত আলোকবর্ষ দূরে
আমি ফিরে আসছি আরও একশো বছর পরে।
এখন, এই মুহূর্তে আমি সায়ন্তন,
তোমার সময় অ্যাক্সিসে ব্রম্ভান্ডের ধূলিকণা,
নতুন ঠিকানায় তুমি অপেক্ষা করো,
আমার উপস্থিতির সময়ে ফিরে তাকিয়ো না।

Friday, November 10, 2017

আগামীর রাজা

সময়ের সাথে অতীত হয়েছি
ছুঁড়ে ফেলো এক কোণে,
তোমার রাজ্যে যুদ্ধ চলছে
আগামীকে দেখবে বলে।

Thursday, November 9, 2017

কফিনবন্দী প্রেম

ব্যথা জমেছিল বুকের ভিতর
কফিনবন্দী সুখ,
আবেগের স্রোতে ভাঁটা পড়ে যায়
বিরহের ফেসবুক।
আমি জানি তবু প্রেম বেঁচে আছে
গিফট্‌ র‍্যাপারে ধৃত,
আমার শহরে কাঁচা প্রেম হাতে

[ আমার শহরে সাদা ফুলে ঢাকা ]
ভালোবাসাগুলো মৃত।

Monday, November 6, 2017

নক্ষত্রের মিলন

দুটি তারা বসে ছিল ছায়াপথে
একটু গল্প করতে চাইতো কিন্তু দূরত্বে সচেতন,
আলোর ভাষা জানে নক্ষত্র
আগুনের উষ্ণতায় ওদের প্রেম নিবেদন।
বড়োই অস্থির ছিল ওদের গ্রাভিটি
এ আকর্ষণ হৃদয়ের নয়, নিশ্চিত মিলিত হওয়ার,
গত পূর্ণিমার রাতে হঠাৎ-ই এক বিস্ফোরণ,
সময় কি এখনও হয়নি ওদের খবর নেওয়ার?

Thursday, November 2, 2017

বিষধর

বন্দী তারের শেষ সীমানায় মুক্তির আলো জ্বলে,
কাঁটার দেওয়াল ভাঙবে এমন মানুষ গেছে চলে।
নীলের নেশায় মানুষগুলোই বিষধর হলো নাকি?
বৃদ্ধ শহরে আলোর ছটা ছড়িয়ে দিক রাত পাখি।

Thursday, October 26, 2017

উৎসবের আলো

চোখ ধাঁধানো আলোর ভিড়ে
সাজছে আমার শহর,
উৎসবের এক মিলনমেলা
জীবন্ত একটা নগর।

Wednesday, October 25, 2017

আমার সংজ্ঞা

ঝড়ের হাওয়া আছড়ে পড়ে
নৌকো ভরা স্বপ্ন ভিড়ে,
আমার হৃদয় দু-আধখানা
খঞ্জনার ওই ছিন্ন নীড়ে।
দৃশ্য ছাড়া ভিজবো কীভাবে
বদ্ধ ঘরের প্রেক্ষাগৃহে?
আমার সংজ্ঞা আমিই লিখি
মাথার ভিতর শব্দ দিয়ে।

Tuesday, October 24, 2017

অন্ধ পথিক

ফুটপাতে এক ধর্ষিত মেয়ে
হাত বাড়িয়ে সাহায্য চায়,
পথের মানুষ ব্যস্ত ভীষণ
ক্যামেরা খুলে ভিডিও বানায়।
চোখ ফেরানো মানুষগুলো
হাত গুটিয়ে শান্ত সাজে,
এতোই শান্ত, ওদের দেখি
যেখানে ধর্মযুদ্ধ বাঁধে।

Monday, October 23, 2017

প্রথম চুম্বন

আমার প্রথম চুম্বন লুকিয়ে এই শহরে,
বৃদ্ধ বটের নীচে অথবা হারানো সময়ে।

Saturday, October 21, 2017

শুভ ভাতৃদ্বিতীয়া

কপাল ছুঁয়ে স্নেহের ফোঁটা
ভাইয়ের আয়ু বাড়ে,
বোনের চলার পথটুকুও
উঠুক আলোয় ভরে।

Wednesday, October 18, 2017

বারুদের চিৎকার

শহরের গায়ে আলোর গয়না,
উৎসবে মাতুক রাত,
এ শহরে কেউ এগিয়ে যায়না,
পিছিয়ে পড়ার ধাত।
তবু আমি তুমি বসে অভিমান করি
অতীতের কারাগারে,
আমাদের কথা ঢাকা পড়ে যায়
বারুদের চিৎকারে।

Tuesday, October 17, 2017

আটপৌরে

আমি আটপৌরে এক লেখক,
কবিতায় ছন্দ নেই, শুধুই শব্দ,
কিছুটা একঘেয়ে, কিছুটা দগ্ধ,
চিন্তাশক্তির উঠোনে কবিতারা
শহরের মৃত কারখানার মতো
প্রতিদিন শুয়ে কাঁদে, শুরুর কোনও গল্প নেই,
এখানেই কবিতার জন্ম, ব্যথার মুক্তি এখানেই।

Monday, October 16, 2017

ভাঙা বিকেলের রোদ্দুর

আমিও জেগে উঠি প্রতিদিন একা ঘুমন্ত অন্ধ রাতের প্রান্তরে,
ব্যথা জমে কিছুটা মনকেমনে অথবা মৃত অতীতের হাত ধরে,
যদি ভেসে আসে তরী কোনও ফাঁকা বন্দরের পথে চোখ চেয়ে,
তোমাকে ছুঁয়ে দেখতে চাইবো আবার ভাঙা বিকেলের রোদ্দুরে।

Sunday, October 15, 2017

শামুক মৃত্যু

শ্লথ শরীরের বেঁচে থাকার দ্বিধায়
ব্যস্ত শহরের পথে চাকার গতি বাড়ছে,
দুই চোখ ভরা স্বপ্নের চির বিদায়,
রাস্তার বুকে মৃত শামুকের শেষ ইচ্ছে।

Saturday, October 14, 2017

অসমাপ্ত

তুমি তো ভালোবাসতে পারো জোৎস্নার আলো ভেদ করে,
তুমি তো পাশে হাঁটতে পারো মোহনায় আমার হাত ধরে।
চোখে ঠোঁট রেখে কথা দিতে পারো অন্ধ চোখে রাত বাকি,
জোনাকির আলো একা ঘরে ফেরে অশ্রু মোছে রাতপাখি।

Thursday, October 12, 2017

অবাধ্য জ্বর

আমি ফিরে যাবো তোমার ঠিকানায়
শীতের সোনা ঝরা দুপুরের রোদ্দুরে,
জানি তোমাদের ভালোবাসা বিছানায়
বেড়ে ওঠে রাতের উষ্ণতার হাত ধরে।
ঝড়ের ক্লান্তি মেখে গায়ে আমি উড়বো
ভেজা তুলোর শরীরে ওজনের ভর করে,
মাঝরাতে তোমার ধমনীতে আমি ফিরবো
বেড়ে যাওয়া রক্তচাপের অবাধ্য জ্বর হয়ে।

Monday, October 9, 2017

জলজ প্রান

চিত্রঃ- ঝরনার জলপান
জঙ্গলের শরীরে স্নিগ্ধতা বয়ে নিয়ে চলেছে পাহাড়ি নদী, ঝরনা হয়ে পাথরের গা বেয়ে নেমে গেছে সমতলের দিকে। আর এই নদীর বুকেই আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে কিছু জলজ জীব। কাঁকড়া, চিংড়ি, শোল মাছ, আরও রকমারী সব মাছ এবং পোকা। এই জঙ্গলেই একদিন ঝরনার পাশে চিংড়ি এবং কাঁকড়া শিকার করতে বেড়িয়েছিলাম গাড়ির চালক এবং এক সঙ্গীকে নিয়ে। ভেবেছিলাম ঝরনার ধারেই এগুলো পেঁয়াজ, লঙ্কা আর মশলা দিয়ে ঝাল করে রেঁধে লেবুর রস দিয়ে হালকা করে মাখিয়ে খাওয়া যাবে। উপর দিয়ে খুব আলতো স্রোতে জল বয়ে যাচ্ছে আর একটু খাঁজ মতো দেখে একটা পাথর খুঁজে বের করা হলো, তারপর তার উপর গামছা ডুবিয়ে বিছিয়ে দেওয়া হল। পাশেই ভাত আর দেশী মুরগী রান্না করছে আমাদের অন্য সঙ্গীরা, কয়েকটা ভাত নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হল গামছার উপর। এবার ওই ভাত খেতে চিংড়িগুলো একে একে যেই এসে জমবে ওমনি সুযোগ বুঝে গামছার চারটি কোন আসতে আসতে তুলে নিলেই কেল্লা ফতে, চিংড়ি আমার হাতে। চিংড়ি কয়েকটা ধরলাম, কিন্তু সে দেখতে আজব। হলদেতে কালো রঙ আর গায়ে বাঘের মতো ডোরাকাটা দাগ। কি থেকে কি হয় কেউ জানে না, এই চিংড়ি খেয়ে অসুস্থ হলে তখন কে সামলাবে! তাই চিংড়ি ছেড়ে কাঁকড়া ধরা শুরু হল, নদীর কাঁকড়া দারুন সুস্বাদু, গাড়ির চালক এই বিষয়ে বেশ অভ্যস্ত, সে পাথর দেখেই বলে দিচ্ছে কোন পাথরের নীচে কাঁকড়া লুকিয়ে রয়েছে আর হাত ধুকিয়েই ধরে দিচ্ছে। এভাবে অনেকগুলো কাঁকড়া শিকার হলো। একটা প্লাস্টিকের প্যাকেটে সেগুলিকে বন্দী করে রাখা হল। মাংস রান্না হলে তারপর রাঁধা হবে, কিন্তু প্রকৃতি সায় দিল না। আগেই বলেছিলাম সেদিন অর্ধেক রান্নার পর ঝেঁপে বৃষ্টি আর সঙ্গে বজ্রপাত, তাই অগত্যা সময় নষ্ট না করে ওগুলোকে জলে ছেড়ে দিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম কারণ বৃষ্টি জোড়ে এসে গেলে রাস্তায় ধস নেমে বেরনো মুশকিল হয়ে যাবে। এই জলেই বাস করে রকমারী সব পোকা। জুতো আর মোজা ছেড়ে রেখে ঝরনার জলে একদিন স্নান করেছি, স্নান করে কিছু বুঝিনি, পোশাক পরিবর্তন করে জুতো মোজা পড়ে বাকি স্পটগুলি ঘুরে ফিরে এসেছি হোটেলে। পায়ের আঙুলে একটা অস্বস্তি সকালে স্নান করার পর থেকেই হচ্ছিল তবে গুরুত্ব দিইনি অতটা। সন্ধ্যাবেলা হোটেলরুমে আড্ডার ফাঁকে হঠাৎ পায়ের আঙুলের দিকে চোখ যেতেই দেখি একটা ছোট্ট পোকা, দেখতে অনেকটা মটর কড়াইয়ে যে পোকা থাকে সেরকম, কামড়ে বসে আছে দুটো আঙুলের মাঝে। ভাবলাম এ আর এমন কি, তাড়াতাড়ি করে টেনে সরাতে গিয়ে পায়ের আঙুল দুটোয় বেশ ব্যথা পেলাম, আমার ভুল ভাঙলো। পোকাটা ছয়টা পা আর মুখে স্প্রিং-এর মতো হুলটা আমার শরীরে ঢুকিয়ে আঁকড়ে বসেছিল, আস্তে আস্তে ভিতরেই চলে যেত যদি না চোখে পড়তো। তাকে তো টেনে বেড় করলাম তবে তক্ষুনি কিছু বুঝিনি। একটা রাত কাটানোর পর ধীরে ধীরে ওই দুটি আঙুলের হাড়ে প্রচন্ড ব্যথা। পোকাটা ওভাবে আঁকড়ে বসে হাড়ে হুল ফুটিয়ে হাড়ের রস খেয়েছে। এই প্রকৃতি বেশ রহস্যময়, এখানে কতরকমের জীবের বাস। একটু অসাবধানতায়, বড়ো রকমের ক্ষতি হতে পারে। টিকে থাকতে হলে জঙ্গলের নিয়মই হল তাই, মরো নয়তো মারো, সেটা এই ছোট্ট পোকাটাও শিখে ফেলেছে প্রকৃতির জাদুবলে।

Sunday, October 8, 2017

মহুয়া বনের অন্তরে

চিত্রঃ- কিরিবুরু জঙ্গল
ঝাড়খণ্ডের কিরিবুরু, পাহাড়ের মাথায় ছোট্ট একটা শহর বলা যেতে পারে। সেখানকার আবহাওয়া, পরিবেশ সবই আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই শহরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এখানে জল, বিদ্যুৎ, যাতায়াত সবই ফ্রী। শহর থেকে অদূরেই সারান্ডা ফরেস্ট, এই জঙ্গলে সাধারণভাবে ঢোকার অনুমতি নেই। তার জন্য নিজের পরিচয়পত্র জমা করে বিশেষ আপিল করে তবেই ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের অফিসারদের থেকে অনুমতি পাওয়া যায়। সারান্ডা ফরেস্টের ভিতরই রয়েছে Steel Authority of India Ltd. (SAIL)-এর নিজস্ব কারখানা আর তাদের নিজস্ব যাতায়াতের গাড়ি, যেগুলো এখানকার সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। এই কোম্পানি নিজেরা বিদ্যুতও উৎপাদন করে থাকে, নিজেদের প্রয়োজনমত বিদ্যুৎ নিয়ে বাকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ এখানের লোকালয়ে, বিশেষ করে সরকারি অফিসগুলিতে বিনামূল্যেই বণ্টন করে দেয়। এই শহর আসলে লোহার শহর, রাস্তাঘাট যেদিকেই চোখ যায় সব জায়গাতেই কাঁচা লোহা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। শোনা যায় আজ থেকে বেশ কয়েক দশক আগে এখানকার মানুষ সেই লোহা কুড়িয়ে বিক্রি করেই বেশ মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করে ফেলেছে, তবে এখন সে'সব বন্ধ হয়েছে সরকারের হস্তক্ষেপে। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে লৌহখনি, আর বিছানো রয়েছে রেলপথ, খনি থেকে লোহা তুলেই সরাসরি সেগুলো উপযুক্ত স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা। জঙ্গলের ভিতর অধিকাংশ এলাকা জুড়েই পলাশ, পাইন, শাল ও মহুয়ার ঘন বন। এই ঘন জঙ্গলে সূর্যের আলো ঠিকঠাক মাটি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না, তাই বেঁচে থাকার সংগ্রামে প্রতিটা গাছই ভীষণ লম্বা, তাদের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধ চলে সূর্যের আলো শিকারের। রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর সিংহ বাদে প্রায় সব রকমেরই হিংস্র জীবজন্তু রয়েছে এই জঙ্গলে। মহুয়ার বন বেশী থাকায় ভাল্লুকের সংখ্যা একটু বেশীই, কারণ ভাল্লুক মহুয়ার রস খেতে ভালবাসে। এই লোহার শহরে মাটির বড়োই অভাব, চারিদিকে লোহা মিশ্রিত কাঁকুড়ে লালমাটি। তবে সেই অভাব দূর করতে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। ভাবছেন মাটি নিয়ে কি হবে? সেকি, মাটি ছাড়া চাষবাস হবে কিকরে! তাই এখানকার চাষ-আবাদ পদ্ধতিও বেশ অদ্ভুত (ঝুম চাষ পদ্ধতি), জঙ্গলের কিছুটা অংশ আগে বেছে নেওয়া হয় চাষ-আবাদের জন্য তারপর সেখনাকার গাছগুলোর গোরার কাছে কিছুটা অংশ ফুটো করে ফাঁপা করে দেওয়া হয় এবং সেগুলোকে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে দেওয়া হয়। গাছগুলি মরে গিয়ে শুকিয়ে গেলে সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং তারপর সেগুলো পুড়ে ছাই হয়ে কাঁকুড়ে মাটির উপর পুরু একটা আস্তরণ ফেলে জমা হয়, আর তার উপরেই হয় চাষ-আবাদ। আর যেখানে চাষ-আবাদ হয় তার আশেপাশেই বিশাল বিশাল গাছের উপর ঘর বানিয়ে মশারি খাটিয়ে বাস করেন কিছু মানুষ, পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাঁচার জন্য মশারি আবশ্যক। এই মানুষগুলি ফলনের সময় রাত জেগে পাহারা দেন যাতে হাতি এসে ফসল নষ্ট না করে। জঙ্গলের ভিতর গাড়ি নিয়ে বেড়াতে গেলে চোখে পড়বে কাঁচা রাস্তার আশেপাশে এখানকার মানুষদের গ্রাম, পর্যটকদের দেখে হাসিমুখে "টাটা" দেয় কিছু বাচ্ছা আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা অর্থাৎ তারা শুভ যাত্রা কামনা করে, আর তারপর গাড়ির পিছনে ওরা ছুটে আসে। সঙ্গে যদি ভালোমন্দ কিছু খাবার থাকে ওদের হাতে তুলে দিলে অথবা ওদের হাতে কিছু টাকা পয়সা দিলে ওদের মুখে যে সরল হাসিটা দেখা যায় তার থেকে পরম আনন্দের কিছু হয়না। এই জঙ্গলের ভিতর অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই ওরা প্রতি মুহূর্তে বড়ো হচ্ছে এবং চাষ-আবাদ করে ওদের বাবা-মায়েরা অন্ন তুলে দিচ্ছেন সেখানকার সাধারণ মানুষের মুখে। আসলে ওদের জনজীবন জঙ্গলের অদৃশ্য কাঁটাতারেই বন্দী, জঙ্গলের পথ পেড়িয়ে শহরে যাওয়া বেশ কঠিন, তারা লোকালয়ে একসাথে হয়ে বিভিন্ন উৎসবও পালন করে থাকেন। পর্যটকরা জঙ্গলে বিপদে পড়লে তারা নিমেশে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাহায্যের জন্যে। তাদের মধ্যে জাত-ধর্মের কোনও ভেদাভেদ নেই, তারা একটাই কথা জানে, তারা প্রত্যেকে মানুষ, আর জঙ্গলের ভিতর প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে চাষ-আবাদ করে সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে সেই মানবিকতার চূড়ান্ত প্রমান দিয়ে চলেছেন প্রতি মুহূর্তে। ইচ্ছে রইলো এই জঙ্গলে আবার ফিরবো, সঙ্গে কুড়িয়ে নিয়ে আসবো আরও অনেক রোমাঞ্চ।

ভাল্লুকের সন্ধানে


চিত্রঃ- মাঝখানে অন্ধকারের কুণ্ডলী পাকানো ভাল্লুকের গুহা
বাইরে বেড়াতে গেলে নিজেরা রান্না করে খাওয়ার একটা আলাদা মজা আছে। এবারেও জঙ্গলে গিয়ে নিজেরা রান্না চাপালাম, ভাত আর বাজার থেকে কিনে আনা দেশী মুরগীর মাংস। জঙ্গলে জলের খুব সমস্যা তাই সেই অসুবিধা দূর করতে ঝর্নার কাছেই রান্না করা হল। জল বেশ স্বচ্ছ এবং গাড়ির চালক জানালো এটা পানের যোগ্য। একদম ঘন জঙ্গল, জনবসতি বেশ দূরে এখান থেকে, ভীষন সাংঘাতিক যায়গা, বন্য জন্তু জানোয়ারের বাস এখানে। তবে জন্তু জানোয়াররা অবশ্য এখানকার মানুষকে ভয় পায়, কারণ এখানকার মানুষও বেশ অভ্যস্ত এই জনজীবনে, তারা নিমেষে কাবু করতে পারে বন্য জীবজন্তুকে। এদিকে আমাদের রান্না হচ্ছে, ভাত প্রায় হয়ে এসেছে, জায়গাটা যে সাংঘাতিক তার প্রমান পেলাম আশেপাশেই কোথাও একটা ভাল্লুকের গর্জন শুনে। চালক জানালো ভাল্লুক মাংসের গন্ধ পেয়েছে তাই গর্জন করছে, আশেপাশেই আছে যেকোনো মুহুর্তে এখানে চলে আসতে পারে। তবে আমরা সাহস করে সেখানেই রয়ে গেলাম, রান্না শেষে খাওয়াদাওয়া সেরে ভাল্লুকের গুহা দেখতে যাবো। কিন্তু প্রকৃতি আমাদের সাথ দিলো না, হঠাৎই ঝেঁপে বৃষ্টি আর সঙ্গে আকাশের বুক চিঁরে নেমে আসছে বিদ্যুতের ঝলকানি আর মেঘের গর্জন। নিঃস্তব্ধ জঙ্গলের ভিতর মেঘের গর্জনটা আরও ভয়ঙ্কর লাগছে। তাড়াতাড়ি সমস্তকিছু গুছিয়ে কোনও মতে গাড়িতে উঠলাম, যে করেই হোক এখান থেকে বেড়োতে হবে। এক জায়গায় রাস্তার উপর দিয়ে ঝর্নার জল বয়ে গেছে, বৃষ্টিতে এই রাস্তায় ধস্ নামতে পারে যেকোনো মুহুর্তে। তবে ভাগ্য ভালো জায়গাটা উতরে গেলাম, কাছেই একটা সরকারী বিশ্রামাগারে গিয়ে উঠলাম, একদম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ডেকরেশনে ফাইভ স্টার হোটেলকেও হার মানাবে, জঙ্গলের একদম কোলেই। তবে আমাদের কাছে স্পেশাল পারমিশন থাকার কারণে সেখানে ঢুকতে কোনও অসুবিধা হল না। ওখানে গিয়ে ভিতরেই বাকি রান্নাটুকু সেরে ফেলা হল, ওখানকার রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে যিনি আছেন পাশেই মিলিটারি ক্যাম্প থেকে প্রয়োজনীয় পানিও জলের ব্যবস্থা করলেন। রান্না শেষে আমরা সবাইমিলে একসাথেই খেতে বসলাম টেবিলে। খেয়ে উঠতে উঠতে বেলা গড়িয়ে গেলো, ঘড়ির কাঁটা বলছে সাড়ে চারটে। ওখানকার রক্ষীকে কিছু বকসিস্ দিয়ে বেড়োলাম, এবার যাবো ভাল্লুকের গুহায়। যাওয়ার পথে মিলিটারি চেকপোস্টে কর্তব্যরত অফিসাররা জানান সামনে কিছুটা এগিয়েই বিশাল এক গাছ রাস্তার উপর পড়ে আছে, গাড়ি যাবে না হয়তো, তবে উনারা আমাদের বাধা দেননি, কেবল সাবধান করলেন। কিছুটা পথ এগিয়ে দেখলাম সত্যিই তাই, প্রকান্ড এক গাছ উপরে পড়ে আছে রাস্তার উপর। গাড়ির চালক জানালো বাকি দেড় কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেই যেতে হবে। সন্ধ্যা নামার মুখে ওখানে না যাওয়াই ভালো, তার উপর ঘন জঙ্গলে অন্ধকারটা আরও ঘনিয়ে উঠেছে, প্রচুর ভাল্লুক আছে এই অঞ্চলে, সঙ্গে চিতাও আছে। যেকোনো মুহুর্তে অ্যাটাক করতে পারে, গতমাসেই একজনকে ভাল্লুকে মেরে ফেলেছে, আর এখন ভাল্লুকদের ডেরায় ফেরার সময়, তাই ফিরে যাওয়াটাই ভালো হবে। আমরা একটু অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়, তাই ফিরে আসতে মনটা ঠিক মানলো না। আমাদের বাকি সঙ্গীদের কয়েকজন বললো ফিরে যেতে আবার কয়েকজন বললো ভাল্লুকের গুহায় যাবে। তাই শেষে ঠিক হলো আমরা চারজন সঙ্গী মিলে জঙ্গলে যাবো, সঙ্গে গাড়ির চালক যাবে আর বাকিরা গাড়িতেই অপেক্ষা করবে আমাদের। যেমন প্ল্যান তেমনই কাজ, চালক বলে দিলো বিপদ বুঝলেই দৌড়াতে, এখানে কেউ কারোর জন্য অপেক্ষা করবে না। জঙ্গলের দিকে রওনা হলাম, প্রায় এক কিলোমিটার গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়লো ভাল্লুকের থাবার টাটকা ছাপ, কিছুক্ষন আগেই এখানে ভাল্লুক এসেছে। একটু ভয় পেলাম, থ্রিলটাও বেশ কয়েকগুন বেড়ে গেলো সঙ্গে উৎসাহটাও। এবার চারদিকে নজর রেখে ধীরে ধীরে এগোচ্ছি, এমন সময় কিছুটা দূরেই ভীষন শব্দে একটা ভাল্লুকের গর্জন। যত পথ এগোচ্ছি তত ভয় আর উৎসাহ সমানুপাতে বাড়ছে মনের ভিতর। একটু এগোতেই হঠাৎ কিছুটা দূরেই একটা গাছ থেকে ঝুপ করে কিছু একটা ঝাঁপ দিলো। সবাই থমকে গেলাম, একজন বললো আর এগোনো ঠিক হবে না। কিন্তু আমরা এখন এমন জায়গায় এসে পড়েছি সামনে এগোলেও বিপদ, ফিরে গেলেও বিপদ। কারণ এটা জঙ্গলের একদম গভীরে, ভাল্লুক যেকোনো দিক থেকেই আসতে পারে, অতএব চলো সামনে এগোই। কিছুটা এগিয়ে দূরে ঘন জঙ্গলের ভিতর কালো একটা কিছু ঘনীভুত হয়ে আছে দেখলাম, বুঝতে বাকি রইলো না এটা কি। এবার আরো সাবধানে এগোচ্ছি, এখানে পথ বলতে কিছুই নেই, জঙ্গল সরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তার উপর সন্ধ্যা নেমে আসছে, জঙ্গলে সন্ধ্যা আগে নামে, গা টা ছমছম করছে একটু, চিতা, নেকড়েও ঘাপটি মেরে থাকতে পারে এই অন্ধকারে। সামনে একটা ছোটো বাঁক, ওটা পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েই আমরা বাক্রুদ্ধ। এটা কোথায় এসে পড়লাম! সামনে একদম বড়ো তিনটে গুহা, আমাদের থেকে দূরত্ব মাত্র ১০-১৫ হাত। গুহার ভিতরটা এতটাই গভীর যে দিনের বেলাতে সূর্যের কড়া রোদেও ঠিক করে আলো পৌছয় কিনা সন্দেহ আছে। আরে! ওই তো একটা ভাল্লুক গুহায় ঢুকলো। ভাল্লুকের ঘ্রানশক্তি সবচেয়ে বেশী, ওরা আমাদের উপস্থিতি বুঝতে পেরেছে। গুহার আশেপাশের গাছগুলো থেকে হঠাৎ ঝুপ-ঝাপ করে লাফানোর আওয়াজ। গল্পের গরু গাছে ওঠে কিন্তু ভাল্লুক নয়, বাস্তবের ভাল্লুক কিন্তু উঠতে পারে। গাছ থেকে শিকারের ঘাড়ে লাফ দিতে পারে এরা। চালক বললো "ভাগো, হাম সাবকো মার দেগা, উসকো ম্যাসুস হো গ্যায়া..."। তারপর আর কিছু মনে নেই, পুরো দেড় কিলোমিটার পথ রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ে ফিরে এসেছি মহুয়া বনের অন্ধকার সরিয়ে। ফিরে এলাম গাড়ির কাছে, এসে স্থানীয় এক আদিবাসী ছেলেকে ওখানে কাঠারি হাতে আশেপাশে ঘুরঘুর করতে দেখলাম, তার মুখে জানলাম আমরা যে পথ দিয়ে ফিরে এসছি সেই পথেই কিছুক্ষন আগে চিতাবাঘ গেছে জঙ্গলের দিকে। প্রমান চাইতে সে আমাদের বাঘের পায়ের টাটকা ছাপ দেখালো বৃষ্টি ভেজা মাটির উপর। একটা ঠান্ডা স্রোত শিড়দাঁড়া বেয়ে নেমে গেলো, বাঘটা আমাদের পিছু ধাওয়া করেনি তো? হয়তো অতজনকে দেখে আর এগোয়নি আমাদের দিকে। আর কিছু ভাবতে পারছি না, তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে চালককে বললাম "গাড়ি ভাগাও, আন্ধেরে হো রাহা হ্যায়, হামকো ইহা সে নিকালনা চাহিয়ে..."। জন্তু জানোয়ার ছাড়াও আরো একটা ভয় আছে এই জঙ্গলে, চালক বললো জঙ্গলের রাস্তা এড়িয়ে অন্যদিক দিয়ে বেড়োবে। সামনে মিলিটারি চেকপোস্ট পেড়িয়ে লৌহখনির পাশ দিয়ে চললাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। দূরে মহুয়া বনের মাথায় আকাশের কোলে পূর্নিমার চাঁদের হাসি।

Wednesday, September 20, 2017

অশনি সংকেত

এখান থেকেই যুদ্ধ শুরু,
অশ্বারোহীর জয় পরাজয়,
লড়াই খোঁজে পায়ের ভূমি 
ভয়ের মাঝেই লুকিয়ে অভয়। 

তোমার যুদ্ধ বন্দী সীমায় 
শিকল ঘেরা এক ঠিকানায়, 
আমার locus বিস্তৃত খুব 
জীবন রেখার শেষ সীমানায়।

Wednesday, September 13, 2017

জীবনের রাজপথ

সেদিন বেশ ভালোই ছিলাম, কেউ ছিল না চলার পথে,
একলা আমি হেঁটে গিয়েছিলাম এই জীবনের রাজপথে,
পথে দেখা দিলো ভালোবাসা, মনে বেড়ে গেলো বিশ্বাস,
সত্যি বলছি, আমার এখন কষ্ট হয়, থমকে শ্বাস-প্রশ্বাস।

যে পথে সবাই হেঁটে চলে গেছে নিজের স্বার্থের সন্ধানে,
সেই পথে আমায় রোজ গ্রাস করেছে শর্তেরা প্রতিক্ষণে,
কথা তো ছিল ভালো থাকবো, ভালোবাসা করলো নিরাশ,
আমি অভ্যাসের কাঁটাতারে আটকে জীবন্ত একটা লাশ।

Tuesday, September 12, 2017

মোহনায় বন্দী

সমুদ্রের ঢেউগুলো বড়ো শান্ত হয়ে উঠেছে,
সন্ধ্যার বাতাসের বুকে ওরা উড়ে বেড়াতে চায়,
বালির গর্ভে লুকিয়ে রেখেছে সমস্ত শিকার
পথহারা ঝিনুকের মৃতদেহ ওদের আহ্বান জানায়।
কোনও দিন সন্ধ্যায় একসাথে কলরব করবে
ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ানো রাত পাখিদের ডানায়
শুনতে পাবো ওদের গর্জন।
আমি নদী মোহনায় বসে থাকবো সেই গর্জন শোনার অপেক্ষায়,
দূর দ্বীপে হারিয়ে যাওয়া নাবিকের আর্তনাদ ভেসে আসবে
আমার কানে মৃত শঙ্খের নকশা ভেদ করে।
আমি উঠে দাঁড়াবো, ঢেউগুলো আহ্বান জানাবে আমাকে,
একটু একটু করে পা বাড়াবো সমুদ্রের দিকে,
ভেজা বালির উপর মোহনা ভর্তি তারা আমায় সাহস দেবে,
বিপন্ন নাবিকের শব্দ আরও তীব্র হয়ে বাজবে মাথার ভিতর।
একটা বড়ো ঢেউ, মুছে দেবে আমার পায়ের ছাপগুলো,
আর আমাকে আশ্রয় দেবে নিজের গভীরে,
চিৎকার করে বলবো, ধৈর্য ধরে হে সময়ের নাবিক,
ধ্রুবতারা নিয়ে আমি আসছি তোমায় পথ দেখাতে।

Friday, September 8, 2017

মেঘের উল

দূরে পাহাড়ের ঘরে ফেলে আসা ক্ষত
রোজ জমে বুকে দৃঢ় পাথরের মতো
রাতে শীত নামে কিছু স্মৃতি জমে মনে
মেঘে উল বোনে, বুকে পাঁজরের কোনে।

রাত এখন

হারিয়ে গেছি রোজ
কবিতার আড়ালে,
সময়ে নিয়ো খোঁজ
বেশী রাত গড়ালে...

Sunday, September 3, 2017

পূজার আবেশ

যে শহরে মিশে আছে
ট্র্যাফিকের আলো চলাচল
যে শহরে মিশে আছে
ভালোবাসার মানুষের ঢল।
সেখানে তুমি মা'গো
নতুন করে আসছ ফিরে
আমার মনে স্বপ্নগুলো
মেলছে ডানা তোমায় ঘিরে।
আমার মনের ঘরে প্রেম সাজাবো
পূজায় কদিন এই আবেশে
রাখবো তোমায় মনের ভিতর
প্রতিটা রাত দিনের শেষে।
তোমার শহর খুশীতে ভরুক
উৎসবে আজ নতুন করে,
আমার উপর দৃষ্টি রেখো
ভালোবাসা দাও দুচোখ ভরে।

Wednesday, August 23, 2017

দুঃখের সুখ

এ জগতে সবাই সুখ চায়,
আমার সুখ ফিরিয়ে নাও,
আমি আরও লিখতে চাই,
একটু দুঃখ উপহার দাও।

Sunday, August 20, 2017

আয়ুরেখা

যদি এই ঘুম আজ আর না ভাঙত
যদি কেউ এসে আজ আর না ডাকতো
তবে আলো ছায়া স্মৃতিগুলো একা কাঁদত
তবে খোয়া যাওয়া তরী তীরে ভেসে উঠত
কেন শ্বাসপ্রশ্বাস চলে, জাগে বিশ্বাস,
কেন ভাগ্যেরা হাসে শুধু করে পরিহাস।

তবে ভালোবেসে পথ চলে
চোরাবালি মনে জমে
ডুবে যেও সাবধানে
মোমবাতি পথে জ্বেলে।

Thursday, August 17, 2017

স্তব্ধতা

তুমি খোঁজ নিয়ে দেখো বোবা টেলিফোন হাতে,
আমি জেগে আছি তোমার ভালোবাসার রাতে।

Saturday, August 12, 2017

প্রেমের খুনি

বন্দুক হাতে তুমি আমার দরবেশে আজও অপেক্ষারত,
আমার জমে থাকা কিছু ভুল আর মন ভিজে কিছু ক্ষত,
ট্রিগারের দেহ ছুঁয়ে আমার নতুন ভুলের অপেক্ষায় তুমি,
শোনো, ভালোবাসা দাও, জীবনে হইয়ো না প্রেমের খুনি।

Friday, August 11, 2017

সুপ্রভাত

আবছা আলোয় ভোরের ছোঁয়া,
আকাশ জুড়ে লাল আলো,
মেঘের কোলে রঙিন ধোঁয়া,
দিনটা সবার যাক ভালো।

স্বপ্নমুখি

শহর অচেনা, সাজানো গোছানো,
রাত নেমে আসে শীতে গা ভেজানো,
মুখোমুখি বসে দুটি অচেনার মনে
কবে চেনা হবে তারই স্বপ্ন বোনে।

ব্যস্ত শহর

এ শহর আজও ব্যস্ত ভীষন
গত রাতে যত ছিল,
হেঁটে গেছি পথ অল্প বিষম
কেউ ভালোবেসেছিল।

Thursday, July 27, 2017

স্বপ্নভঙ্গ - একটি প্রেমিক ভূতের গল্প

সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরছে অভি, বুক পকেট থেকে ফোনটা বেজে উঠলো। ক্লান্তির আঙুলে পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখলো সোমার ফোন। সারাদিন কাজের চাপে ব্যস্ত অভি আজ সোমাকে ফোন করার সময়ই পায়নি, দেখে বেশ কিছুটা খুশীই হল সে। ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে "কিগো, সারাদিন একটা ফোনও করলে না, এতো ব্যস্ত তুমি আজকাল..."। একটা নিঃশ্বাস ফেললো অভি, তার কাছে এই অভিযোগ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তারপর বলল, "বুঝতেই তো পারছ বাইরে কাজে এসেছি, এখানে খুব চাপ তাই আর সময় পাইনি আর কি..."। সোমা কিছুটা ভারী গলায় বলল, "নিজের কাজ নিয়েই থাকো, তোমার স্যার তো আর কাউকে পায় না, সব তোমাকেই দিতে হয়... একটা নতুন ফ্ল্যাট দেখেছিলাম আমরা দুজন থাকবো বলে, সে বিষয়েই কথা বলতাম। থাক, রাখছি!" অভি জানে প্রতিদিনের মতো আজও তার কিছু বলার নেই, ও নিজের কাজটাকে খুব ভালবাসে তাই যত অসুবিধাই হোক খুব আনন্দ সহকারে কাজগুলো শেষ করে। ফোনটা পকেটে ভরে চুপচাপ হাঁটতে শুরু করে অভি, সামনেই অটো স্ট্যান্ড, প্রতিদিন সেখান থেকে অটো ধরে বাড়ি ফেরে। রাস্তার একদম ধারেই একটা বাড়িতে ভাড়া থাকে, তার আসল বাড়ি ও অফিস দুই-ই কলকাতায়, কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে চারদিনের জন্য এসে এখানেই ভাড়া উঠেছে। কাল সকালের ফ্লাইট। আজ অভির মনে বেশ কিছু ভাবনা জড়ো হয়েছে। সারাদিন কাজের ব্যস্ততায় যে ভাবনাগুলো চাপা পরে থাকে প্রতিদিন, আজ সেগুলো খুঁড়ে আনবে মনের পৃষ্ঠায়, তাই সন্ধ্যার বাতাসে নিজের মনকে ভাসিয়ে দিয়ে এই অচেনা শহরের পথের উপর দিয়ে হেঁটেই ঘরে ফিরতে চায় সে, কালই তো ছেড়ে চলে যাবে। অভি এগিয়ে যেতে লাগলো, ১০ মিনিট হেঁটে এগোনোর পরই সামনে একটা ছোট ব্রিজ, দুদিকে রেলিং দেওয়া আর নীচ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট একটা খাল। প্রতিদিন অটো করে সাঁ সাঁ করে এই ব্রিজের বুকের উপর দিয়ে ঘরে ফিরে যায় অভি। আজকে সে থমকে একটু দাঁড়ালো। ব্রিজের রেলিং-এ হেলান দিয়ে নীচের দিকে তাকাল, জল বয়ে যাচ্ছে কুল কুল শব্দে আর অন্ধকারে ঘনীভূত হয়ে উঠেছে চারপাশটা। সারাদিন অফিসের ক্লান্তির পর যেন এখানে জলের শব্দে নিজের সমস্ত ক্লান্তিকে ভাসিয়ে দিতে পারছে সে। অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে অভির মন যেন হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়া কোনও বহুদিনের চেনা পরিসরে ঢুকে পড়েছে। অভির মনে পড়লো আজ দুপুরে টিফিন করা হয়নি কাজের চাপে, অবশ্য তাতে কার কি, কেউ খোঁজও তো নেয়নি তার। আর নেবেই বা কেন, সে এখন স্বাবলম্বী। এককালে কেউ অবশ্য প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নিত তার। একটা জোড় নিঃশ্বাস ফেললো, চোখটা কিছুটা ঝাপসা হয়ে এলো। চোখ মুছে অভি তাকাল দূরের দিকে, ল্যাম্পপোস্টগুলো কেমন একভাবে দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকারে আর অবিরাম আলো দিয়ে চলেছে রাস্তার বুকের ক্ষতগুলোতে। প্রতিদানে কিছুই পায়না, আলো কমে এলে লোকজনের গাল খায়। এভাবেই ঝড় বৃষ্টি মাথায় রেখে আলো দিয়ে চলে তারা। হাতঘড়িটার দিকে তাকাল, অন্যদিনের তুলনায় রাত হয়েছে বেশ, তাতে কি, চিন্তা করার কেউ নেই বাড়িতে। আবার ফোনটা বেজে উঠলো, বের করে দেখল মায়ের ফোন। প্রতিদিন রাত্রের মতো আজও তিনি সেই চেনা সুরেই বললেন "কিরে, ঘরে ফিরেছিস? খেয়েছিস কিছু?" প্রতিদিন অভি বিরক্ত হয়ে বলে "ধুর, আমি কি বাচ্ছা নাকি, এসব জিজ্ঞেস করবে না তো প্রতিদিন!" অভির মা হেসে ওঠেন জবাব শুনে। আজকে অভি শান্ত স্বরে বলল "হ্যাঁ মা ফিরেছি, একটু পরেই খাবো"। অভি জানে এখনও ঘরে ফেরেনি শুনলে তার মা চিন্তা করবেন তাই মিথ্যে কথাটাই বলতে হল। তারপর কিছুক্ষণ চলল মা-ছেলের কথোপকথন। ফোন রাখার সময় অভির মা বলল "মায়েদের চোখ কখনো ফাঁকি দেওয়া যায় রে! তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে কিছু খেয়ে নিস! কাল সকালের ফ্লাইট তো, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়িস" অভি হতবাক, এভাবে কেউ কোনোদিন ওর মন পড়তে পারেনি আগে। ঘরে ফিরে এসে খাওয়াদাওয়া করে ঘড়িতে অ্যালার্মটা সেট করে ঘুমিয়ে পড়লো অভি। সকালে উঠে সোমার ফোন, কথা বলে তারপর রেডি হয়ে একটা ট্যাক্সি ধরে রওনা হল এয়ারপোর্টের দিকে। ফ্লাইট ধরল সে, কলকাতায় ল্যান্ডিং ১০ টায়। ল্যান্ড করার সময় হঠাৎ ভীষণ ঝাঁকুনি, একটা জোড় বিস্ফোরণ। তারপর... লাফিয়ে উঠলো অভি, "কি ভয়ঙ্কর একটা দুঃস্বপ্ন!"

ঘড়ির দিকে তাকাল, সময় ভোর ৫টা, সকাল ৮টা ১৫-য় ফ্লাইট। সোমার ফোন এলো, "কি গো উঠেছ? আমি ১১ টায় তোমার জন্য কলকাতা এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করবো কিন্তু, নেমে একটা ফোন করো আমায়, তারপর একসাথে আমরা নতুন ফ্ল্যাট-টা দেখতে যাবো। যেখানে আমি আর তুমি থাকবো অনলি..." অভি কথা না বাড়িয়ে "হুম..." বলে রেখে দিলো। অভির মনে পড়লো কেউ একজন বলেছিল ভোর রাতের স্বপ্ন কিন্তু সত্যি হয়, অভির কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল মনের ভিতর, সবাইকে হঠাৎ করে দেখতে ইচ্ছে করছিলো, কিন্তু উপায় কই! বাড়ি না ফিরলে তো দেখতে যেতে পারবে না। তাই উপায় না পেয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ট্যাক্সি ধরে বেড়িয়ে পড়লো এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে। ফ্লাইট ধরল অভি। সোমা যথারীতি ১১টার সময় এয়ারপোর্টে এসে দাঁড়িয়ে আছে অভির জন্য। হঠাৎ অভির ফোন, কানে দিতেই "আমি নেমেছি, গেট থেকে বেড়িয়ে পরেছি, সামনের ফাঁকা গলিটার দিকে এসো, ওখানেই অপেক্ষা করছি আমি..."। সোমা ফোনটা রেখে তাড়াতাড়ি ওদিকে গেল, অভিকে দেখতে পেয়ে জড়িয়ে ধরল। অভি সোমাকে বলল, "আজকে খুব ক্লান্ত, অন্য একদিন ফ্ল্যাটটা দেখতে যাবো, চলো ঘরে ফিরি..." সোমা শুনতেই চাইলো না, অভির উপর রেগে গিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো "আমাকে তো আর ভালোবাসো না, আমার কথা রাখবে কেন, অফিসের কাজগুলোই তো মুল্যবান তোমার কাছে..." অতঃপর অভি রাজি হয়ে সোমার সাথে গেল নতুন ফ্ল্যাট দেখতে, সেখানে দুজনে ঘুরে ঘুরে ঘরগুলো দেখতে লাগলো। ফ্ল্যাট দেখে বাইরে এসে সোমা দেখছে অভি নেই, বেশ কয়েকবার নাম ধরে ডাকল, কিন্তু কেউ সারা দিলো না। বাইরের সিকিউরিটি গার্ডটা ছুটে এসে জিজ্ঞেস করলো "আপ কিসি কো ঢুন্ড র‍্যাহি হ্যায় ম্যাডাম?", সোমা উত্তরে দিলো "হ্যাঁ, মেরে সাথ জিসনে আয়ে থে, উনকো..." সিকিউরিটি গার্ড জবাবে বলল "লেকেন আপ তো আকেলাই আয়ে থি ম্যাডাম..." সোমা আর কথা না বাড়িয়ে ফোনটা বের করল অভিকে ফোন করবে বলে, ফোন বের করেই দেখল ৬-টা মিস্‌ কল অভির বাড়ি থেকে। সাইলেন্ট থাকায় ফোনটা শুনতেই পায়নি, কিন্তু অভি তো ফোন করলো তখন বাজলো! যাই হোক সে আর কথা না বাড়িয়ে ঘুড়িয়ে ফোন করলো বাড়িতে, অভির এক বন্ধু ফোনটা ধরে বলল "তুমি বাড়ি এসো খুব দরকার..." সোমা বলতে গেল "কিন্তু অভি তো..." ওমনি অপর প্রান্ত থেকে বলল "অভি পরে আসবে, তুমি তাড়াতাড়ি এসো..."। সোমার মাথা গরম, অভি না বলে নিশ্চয়ই আবার অফিসের কাজে চলে গেছে। ট্যাক্সি ধরে যখন ঘরে ফিরল সোমা, বাড়ির বাইরে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছে। ঘরে ঢুকে অভির সেই বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলো, "কি হয়েছে, বাইরে এতো...?" সে সোমার কাঁধে হাত রেখে বলল "অভির ফ্লাইটটা ল্যান্ড করার সময়..." আর বলতে পারলো না, কেঁদে ফেললো সে। টিভির দিকে তাকাতেই সোমা দেখল খবরে প্লেন দুর্ঘটনার খবর, সোমার আর বুঝতে বাকি রইলো না ঘটনাটা। একটা ঠাণ্ডা স্রোত নেমে গেল সোমার গা বেয়ে, ভয় আর বেদনায় জর্জরিত হয়ে পড়লো সোমার মন। মনে পড়লো তার ঠাকুমার কাছে শুনেছিলো, ইহলোক ত্যাগ করার পূর্বে তার কাছের মানুষকে দেখা দিয়ে যায়... এয়ারপোর্টের পাশের ফাঁকা গলিতে দাঁড়িয়ে চিৎকারের শব্দগুলো বুকে এসে গাঁথতে লাগলো সোমার... হাতের কাছে ফোনটা আবার ভাইব্রেট করে উঠলো, এয়ারপোর্টের নাম্বার। অভির দেহ সনাক্ত করতে হবে।

Tuesday, July 25, 2017

মুগ্ধতা

আমিও বর্ষা উপহার দিতে পারি
যদি আমার চোখে ভিজতে চাও,
আমিও ঠোঁটে বিদ্ধ করতে পারি
যদি আমার চুম্বনে মুগ্ধতা পাও।

Friday, July 14, 2017

আমার শহর

আমার শহর অন্ধ রাতে মনখারাপে ভাসে,
আমার শহর সময় খুঁজে অল্প ভালোবাসে।

Thursday, July 6, 2017

অদৃশ্য চাবুক

ধারালো ব্লেডের আদরে স্নান করা কিছু বাক্য প্রতিদিন
হয়ে ওঠে মনের গোপনেও চোখের আড়ালে সম্মুখীন।
যেখানে আঘাত অনুভব করতে প্রয়োজন নেই
কোনও ইন্দ্রিয়ের, কথা শেষ হয় 'প্রয়োজন'-এই,
সেখানে তোমাদের অক্ষরগুলো সাজানো থাকে
আমার মনের গভীরে জমানো স্বাধীনতার রাতে।
আমার বাক্যাভ্যাস মানতে না চাইলেও বেঁধে রাখি
শব্দের মালাতে, কারণ আমিতো জানি ভোর বাকি।
নতুন সকালের সন্ধানে বেরবো ভোররাতে একদিন
খোঁজ করবো কোন নদীর মোহনায় আমিও স্বাধীন,
প্রার্থনা করো যেন ভোঁতা হয়ে থাকে আমার এই চোরা মুখ,
নইলে কিন্তু ঘোর বিলুপ্তির পথে তোমার ওই অদৃশ্য চাবুক।

Monday, July 3, 2017

এই শহর

এ শহর আজও ভিজে আছে জলে
বৃষ্টির কিংবা আবছা স্মৃতিদের দলে,
এ শহর আজও রাতে তারা গোনে
একা জেগে থাকা প্রেমিকার মনে।

Saturday, June 24, 2017

ভেজা মন

ভেজা মন ছুঁয়ে যায়
মেঘেদের নিশানায়,
এ পথে কে কাঁদায়?
তোর মন ভিজে যায়
অকারণ।
এ সাগর ধুয়ে যায়
নদীদের কিনারায়
কীসেরই তাড়নায়?
কেন কোন আছিলায়
ভাঙা মন।

পারাপার

শামুকেরা জেদ ধরে রাস্তা পার করবে,
হেডলাইটের চাকা ওদের পিষে মারবে,
এটাই বর্ষার রীতি, আর শামুকের ভৃতি।

Tuesday, June 13, 2017

শৈশব

সাদা কাগজের ভেলা
জলে সাময়িক মেলা
গল্পেরা ফাঁকি দেয়,
একা আকাশের নীচে
মন বৃষ্টিতে ভিজে
শৈশব ছুঁতে চায়।

Sunday, June 11, 2017

অন্তর লড়াই

এই জীর্ণ বুকে লড়তে আমি পারবো না,
তোর চোখের চাদর আঙুল ছুঁয়ে মুছবো না,
তবু ভাঙছি আমি রাতের দেহে এক কোনা,
আমার বন্দী দেহেই শিকল ভাঙার কারখানা।

Saturday, June 10, 2017

লালমাটির জীবাশ্ম

রাহুলের খুব হতাশ লাগছিলো সেদিন। প্রজেক্টের কাজে এসে দেখে মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ করছে না। অনেকটা বেলা গড়িয়ে গেছে, পশ্চিমের গোটা আকাশ জুড়ে হালকা হলদেটে একটা আভা ছড়িয়ে পরেছে। ঘড়িটার দিকে একবার তাকালো, ঘণ্টার কাঁটা ৩-এর উপর চেপে বসে আছে। জায়গাটা শহর থেকে বেশ দূরে, এখন ষ্টেশন গিয়ে পৌঁছতে প্রায় বিকেল হয়ে যাবে। ততোক্ষণে দিনের শেষ প্যাসেঞ্জার ট্রেন কালো ধোঁওয়া উড়িয়ে বেড়িয়ে যাবে ষ্টেশন ছেড়ে, তারপর আবার রাতে ট্রেন। মাঝে কিছু লোকাল ট্রেন আছে ঠিকই, তবে সেগুলো আসানসোলের পর আর যায়না, তারপর সেখান থেকে আবার ট্রেন পালটে কলকাতা ফিরতে অনেকটাই রাত গড়িয়ে যাবে। এদিকে মোবাইলে নেটওয়ার্ক না থাকায় বাড়িতে একটা ফোন করে জানাতেও পারছে না সে, বাড়িতে বলে এসেছে সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে পড়বে। কিছু উপায় না থাকায় রাহুল বুঝে গেলো যে আজ রাতটা এখানেই তাকে কাটিয়ে দিতে হবে। পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই অঞ্চলের বয়স বাড়েনি হয়তো, তাই শহুরে আধুনিকতার থেকে এই অঞ্চল অনেকটাই পিছিয়ে, ইলেক্ট্রিসিটি এখানে পৌঁছায়নি এখনও। পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়র রাহুল, সেই প্রজেক্টের কাজেই এখানে এসেছিলো সৌর বিদ্যুৎ কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলের ডেভেলপমেন্ট করার বিষয়ে। এখানে ইলেক্ট্রিসিটি নেই আগে থেকেই জানতো সে, তাই ব্যাগে কিছু ছোটোখাটো সৌরকোষ এনেছিল মোবাইলে চার্জ দেওয়ার জন্যে, সেগুলো তাড়াতাড়ি বের করে ফেললো। রোদ থাকতে নিজের সেলফোন আর টর্চটা এক ঘণ্টা চার্জ করে নিলো। পকেটে বেশী টাকা পয়সা নেই, আসার সময় ষ্টেশনের এটিএম-টায় টাকা ছিল না তাই তুলতে পারেনি। জায়গাটা পাহাড়ের একদম গায়েই, একটা ছোট নদী বয়ে যাচ্ছে কোনও পাহাড়ি ঝর্না থেকে বেড়িয়ে এসে। তার পাশে বসেই রাহুল ব্যাগ থেকে বিস্কুট, কেক ইত্যাদি বের করে খেতে শুরু করলো। বিকেল হয়ে গেছে, দূরের একটা মাঠে রাখাল ছেলেরা ভেড়ার পাল নিয়ে ধুলো উড়িয়ে ঘরে ফিরছে, ধুলোর মধ্যে সূর্যের লাল আভা পরে এক অপরুপ সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতার বিকেলে রাহুল আগে কখনও এমন সৌন্দর্য লক্ষ করেনি, সেখানে তো বিকেল মানেই শরীরে ক্লান্তি বয়ে নিয়ে ঘরে ফেরার তাড়া। সন্ধে নামবে আর কিছু পরেই, তাই বেশীক্ষণ বসে না থেকে রাহুল সেখান থেকে উঠে এবার হাঁটা শুরু করলো পাহাড়টার দিকে যদি কোনও আস্তানা পাওয়া যায়। এখানে তো অনেকেই ক্যাম্প করতে আসে, কোনও টীমকে পাওয়া গেলে বেশ ভালোই হয়। রাতটা তাদের সঙ্গে কাটিয়ে দেওয়া যাবে না হয়। তবে রাহুলের সে আশায় জল ঢেলে একটু এগোতেই পাহাড়ের একদম কোলে একটা ছোট্ট কুঁড়ে ঘরের দেখা মিলল। একেবারে ভাঙাচোরা একটা ঘর, দেখে যা মনে হল, কেউই থাকে না সেখানে। মানবসভ্যতার নিদর্শন হয়ে টিকে আছে কোনোক্রমে। চারিদিকে মাকড়শার জাল বুনে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা। শহরের ছেলে রাহুল এতো বছরের জীবনে কখনও এরকম পরিবেশে থাকেনি, কিন্তু আজকের রাতটা যা হোক করে এখানে মানিয়ে নিতেই হবে। কারণ সন্ধে নেমে আসছে, সে আর এগোতে সাহস পাচ্ছে না, জঙ্গলে হাতি, শেয়াল, হায়না তো আছেই। তাড়াতাড়ি করে আশপাশ থেকে কাঠ-পাতা কুড়িয়ে আগুন করে ফেললো, সাঁঝের আকাশের ধোঁয়া উড়তে লাগলো। একটু আগুন, ধোঁওয়া থাকলে রাতের দিকে পশু-প্রাণীরা এদিকে আসবে না, ধোঁওয়ার জন্য মশা-মাছিদেরও উৎপাত থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে। রাতে ঘুমনো যাবে না, এখানেই জেগে কাটাতে হবে, কারণ কুঁড়ে ঘরের ভিতর যা অবস্থা সেখানে পিঠ পেতে ঘুমোতে গেলে জামাকাপড়ের মায়া ত্যাগ করতে হবে। মোবাইলে টাওয়ার না থাকায় চার্জ বেশ তাড়াতাড়ি কমছে, তাই মোবাইলটা ফ্লাইট করে দেওয়াই ভালো। ইতিমধ্যে রাহুল মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখল নেটওয়ার্ক-এর পাশে একটা কাঁটা এসেছে। তাড়াতাড়ি করে বাড়িতে ফোন করলো কিন্তু এতটাই বেহাল দশা যে, অর্ধেক কথা শোনাই যাচ্ছে না। সময় নষ্ট না করে বাড়িতে একটা এসএমএস পাঠিয়ে দিলো, ২-৩ বার চেষ্টা করে এসএমএস টা সেন্ড হল, কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে এসএমএস-এর রিপ্লাই পেয়ে একটা চিন্তা মাথা থেকে দূর হল। ফোনটা ফ্লাইট করে রেখে দিলো ব্যাগে। এখন বসন্তের আগমন ঘটেছে বাতাসে, পাহাড়ি অঞ্চল রাত গড়াতেই হালকা শীত লাগছে গায়ে। আগুনের কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে বসে তাপ নিলো শরীরে। চারদিক নিস্তব্ধ, ঝিঁঝিঁপোকার আওয়াজে ভরে উঠেছে চারদিক, মাঝে মাঝে হাওয়া দিলে পাতার খসখস শব্দ। দূরের জঙ্গলে বন্য প্রাণীদের ডাকও শোনা যাচ্ছে মাঝে মাঝে। কিছুক্ষণ পর ঝিঁঝিঁপোকার শব্দটা থেমে গেলো। মুখটা তুলে দূরে পাহাড়টার দিকে তাকাতে গিয়ে আকাশের দিকে চোখ গেলো। একই পরিবেশের সকাল আর রাত্রির দুটো দৃশ্যকে একসাথে যেন মেলাতেই পারছে না সে। মাথার উপর আকাশটা তারায় ভরে উঠেছে, পাহাড়টা চাঁদের আলোয় বেশ সেজে উঠেছে, দূরের ঝোপটায় সাদা রঙের বনফুল গুলো চাঁদের আলোয় মাথা তুলে দোল খাচ্ছে আর তার সঙ্গে কানে ভেসে আসছে অনেক দূরের কোনও এক গ্রাম থেকে আদিবাসী মানুষদের গানের সুর। রোমাঞ্চে সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো রাহুলের। শহরে রাত্রি নামলেই বড়ো বড়ো বিজলী বাতিগুলো উজ্জ্বল হলুদ চোখে তাকিয়ে থাকে পথের দিকে, তাদের আলো ভেদ করে আকাশের অন্ধকারে দৃষ্টি পৌঁছয় না সহজে, তাই এর আগে কখনও এমন সৌন্দর্য উপভোগ করেনি রাহুল। আধুনিক মানব সভ্যতা থেকে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চল যে তাকে এভাবে একপ্রকার মুগ্ধতা দেবে সেটা তার কাছে কল্পনাতীতই বটে। দূরে কোনও এক বন থেকে বসন্তের হাওয়া শরীরে করে মহুয়ার গন্ধ বয়ে আনছে মাঝে মাঝে, এরকম রোমাঞ্চের মাঝে একা বসে থেকে সেই গন্ধে একপ্রকার নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে রাহুল। এভাবেই লাল মাটির পরিবেশে প্রকৃতির স্নেহে মাথা রেখে কখন যে তার দু-চোখে ঘুম নেমে এসেছে কিছু বুঝতেই পারলো না, যখন ঘুম ভাঙল উঠে দেখল আকাশের আঙিনায় আলো ফুটে গেছে অনেক আগেই। দূরের পাহাড়টার কোল বেয়ে সোনালী রোদ ঝড়ে পরেছে আশেপাশের ছোট ছোট জঙ্গলগুলোর উপরে। আগুনটাও নিভে গেছে, শুধু পরে আছে কিছু ছাই আর আধপোড়া কাঠ। হাতঘড়িতে চোখ যেতেই দেখল ৮-টা বাজে, তাড়াতাড়ি করে ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিলো। ট্রেকার ধরে সময়ে ষ্টেশনে পৌঁছতে পারলে একটু পরেই একটা ট্রেন আছে, আগের দিনের রিটার্ন টিকিট-টা পকেটে হাত দিয়ে একবার দেখে নিলো আছে কিনা। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে হাতে পায়ে ধুলো ঝেড়ে নিয়ে ট্রেকার ধরার জন্যে দূরের বড়ো রাস্তার দিকে হাঁটতে শুরু করলো পায়ের ছাপগুলোকে পিছনে ফেলে। ষ্টেশনে পৌঁছে সময়েই ট্রেনটা পেয়ে গেলো। বিকেলে কলকাতা পৌঁছে বাড়ি ফেরার সময় পথের ধারে কোথা থেকে একটা গানের আওয়াজ ভেসে আসছে, “এই শহর থেকে আরও অনেক দূরে, চলো কোথাও চলে যাই...”, রাহুল নিজের পায়ের দিকে একবার তাকালো, তখনও ওর জুতোর গায়ে আঁকড়ে ধরে আছে লালমাটির জীবাশ্ম। ক্ষণিক থমকে থেকে আবার আনমনে ফুটপাথ ধরে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলো কলকাতার ক্লান্ত বিকেলে, সঙ্গে মনের ভিতর সঞ্চয় করে রাখল গত রাতের অভিজ্ঞতাগুলোকে।

Thursday, June 8, 2017

বিকেলের গান

আমাকে ভুল বুঝো না,
খেলাটা জমে গেলো কার বেদনায়?
আমাকে ভালবেসো না,
জলে খুব ভেজাবো চোখ দুজনায়।

কখনও থেমে গেলে অভিমানে হায়,
তোমারই ভালোবাসা প্রতিজনে চায়।
কখনও শীতকালে রোদ মেখে গায়ে,
বিকেলে দেখা হোক এক কাপ চায়ে।

Tuesday, June 6, 2017

প্রতিবিম্ব

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিবিম্বকে হেয় করে অট্টহাস্যের সাথে বলি "শেষে কিনা এভাবে হেরে গেলি?", ও শোনে, কিছু বলে না। সময় থেমে যায়, আমি হাসি আর ও কাঁদে। প্রতিবিম্ব প্রকৃতই সম্পূর্ণ এক বিপরীত রুপ প্রদর্শন করে। তফাৎ কিছুই নেই, সে আমার অন্তর জানে তাই নিজের বুকে ব্যথা সঞ্চয় করে, আর আয়নার বাইরে মিথ্যা 'আমি'-র বহিঃপ্রকাশ ঘটে চলে অনবরত।

Saturday, June 3, 2017

রঙিন

স্বপ্নগুলোয় রঙ ছড়িয়ে
ঘুমের রাতে হাত জড়িয়ে,
ক্লান্ত চুলে তোর আঙুলের স্বাদ।
সাবধানে তুই চোখ এড়িয়ে
বন্দী শিকল গেট পেরিয়ে,
স্কুল ছুটিতে প্রেমগুলো অবাধ।

Friday, June 2, 2017

ঘরছাড়া মন

বোকা পথঘাট জানে বাঁধানো শহরে
ঘরছাড়া কিছু মন,
ফাঁকা বন্দর হাসে নদীবুকে ভেসে
প্রেমগুলো প্রাক্তন।
তবু হেঁটে যায় ওরা স্তব্ধ বিকেলে,
কচি ঘাসগুলো মাথানত,
প্রতিদিন রাতে কাটাকুটি খেলে,
বুকের ভিতরে ক্ষত।

Tuesday, May 30, 2017

তোমার সৃষ্টি

তুমি রুমালের ভাঁজে স্মৃতি মুছে নিও, শহরে প্রেমের বৃষ্টি,
আজ মনের গভীরে বেড়ে যায় ক্ষত, সবই তোমারই সৃষ্টি।

Monday, May 29, 2017

কাঁচা প্রেম

চেনা পথঘাট স্মৃতি ধরে রাখে,
ভেজা রেলপথ পিছু ফিরে ডাকে,
চেনা খাম আজ চিঠি বুকে রাখে,
কাঁচা প্রেমগুলো রোজ রাতে জাগে।

Saturday, May 27, 2017

রুপকথার দেশে

বিকেলগুলো মুক্তি খোঁজে ক্লান্ত দিনের শেষে,
আমার পাতায় শব্দ সাজে রুপকথাদের দেশে।

Thursday, May 25, 2017

প্রাচীর

আমার হাসিতে ধরা দিয়ো তুমি
স্নানঘরে একা রাতে,
তোমার বয়স বেড়ে যায় দিনে
বুক ভরা বেদনাতে।

Tuesday, May 23, 2017

মিথ্যা

সত্যিগুলো পড়ছে ঢাকা
অন্ধকার এই পথে,
আমার দোষটা মিথ্যা হলেও
জ্বলে ওঠে প্রতি রাতে।

Monday, May 22, 2017

বাক্সবন্দী

শব্দে যে তুই সঙ্গীহীন,
গল্পতে তুই খুব রঙিন,
আমার হাতের ভিতর হাত জড়িয়েই থাক।
তোর
নরম ঠোঁটের নিকোটিন,
আমার ছোঁয়া অর্বাচীন,
তোর খাতায় আমায় এক কোনাতেই রাখ।

বৃষ্টি মাথায় দাড়িয়ে,
চোখের কথায় হাঁপিয়ে,
তোর হাতের পাশে অনেক নতুন হাত।
তুই
ভাবলি যখন পালিয়ে,
ঘরের শিকল নামিয়ে,
তোর বাক্সবন্দী অন্য দেহেই রাত।

Wednesday, May 17, 2017

প্রেমিকের অভিশাপ

দুই মন,
একা জানালায় বসে সারাক্ষণ,
কে আপন,
ভরা চিঠি হাতে পিয়নের গমন।

যদি রাত
নেমে আসে কাঁধে রেখে তোর হাত,
লেগে থাক
শরীরের গায়ে ব্যর্থ প্রেমিকের অভিশাপ।

Saturday, May 13, 2017

প্রাচীন প্রেমের ধারা

আমার বৃষ্টি ভেজা বিকেল,
আর সাঁঝ আকাশের তারা,
তোমার অভিমান খুব রাতে,
আমি আজ একান্ত মনমরা।

তুমি সময় পেলে এসো,
হবে পুরনো গান গাওয়া,
একটু দুঃখ পাবো আজও,
এটাই প্রাচীন প্রেমের ধারা।

Friday, May 12, 2017

স্বপ্নের সাজ

তোমার স্বপ্নের রাশ ভারী,
আমার প্রশ্নের হোক দারি,
তোমার কথার উত্তর দিচ্ছে কে?
ফেসবুকে আজ মুখিয়ে,
উত্তর খুঁজছো লুকিয়ে,
ভাবছ ঝড়ে থাকবে পাশে সে।

জানছি আমি প্রেম কীরকম,
চলছে লড়াই জীবন মরণ,
ক্লান্ত চোখেই খুঁজছি পথ-টাকে,
বাস্তব জুড়ে বিষাদ ভীষণ,
কল্পনাতেই সিংহের আসন,
ভাবছি ধরে আনবো চাঁদ-টাকে।

Wednesday, May 10, 2017

স্রোতের তরী

ওই দিঘীর ধারে ভেসে যায় তরী
স্রোত নিয়ে কাঁধে বয়ে, 
ছিঁড়ে গেছে ঢেউয়ে নোঙরের দড়ি,
বুক ভরা ক্ষত নিয়ে।

Saturday, May 6, 2017

ভেজা স্মৃতি

ষ্টেশনের বুকে ট্রেন এসে থামে,
স্মৃতিদের ভিড় রোজ পথে নামে,
মনে জমে মেঘ, মুখে জমে হাসি,
বৃষ্টির দিনে রোদ ভালোবাসি।

"মন ভালো নেই", হেডফোন জানে,
কেটে যায় দিন "ছোট শহরের গান"-এ,
বিকেলের শেষে ভালোবাসা বাকি,
পথ জুড়ে নামে কালবৈশাখী।

Monday, May 1, 2017

ঝাপসা মেজাজ

তোমার শহর বৃষ্টি ভেজা,
রাজপথে শুয়ে একা,
আমার কাঁচের ঝাপসা মেজাজ,
তোমায় নিয়েই লেখা।

Saturday, April 22, 2017

ওরা বিচ্ছেদ চায়

গভীর রাতের দুই জোড়া চোখ ভিজছে অসহায়,
তোর তাসের ঘরের ইটগুলো আজ বিচ্ছেদ চায়।

Thursday, April 20, 2017

মেঘের কান্না

একটা তারা আকাশ থেকে পড়লো খসে কাকভোরে,
শহর কাঁদল মেঘের ব্যাথায়, বৃষ্টি নামলো খুব জোড়ে।

Wednesday, April 19, 2017

গোধূলি

বিকেল শেষের দমকা হাওয়া লাগলো এসে গায়ে,
প্রেমের ক্ষতয় বৃষ্টি নামলে ভিজবো খালি পায়ে।

Tuesday, April 18, 2017

মুখোমুখি

এক সমুদ্রে মুখোমুখি ছোট্ট দুটি ঢেউ,
জলের স্রোতে হারিয়ে গেলো,
রাখলো না মনে কেউ।

Saturday, April 15, 2017

শুভ নববর্ষ

আশার আলো দুচোখ ভরে,
বাঁচবো সবাই নতুন করে।

Thursday, April 13, 2017

স্বার্থপর

ভেবেছি একটু স্বার্থপর হবো,
হাসি মুখে গুনেছি অনেক বিন্দু জল,
জানি না এক মুঠো ঢেউ কবে হাতে পাবো,
একটু বদলে যেতে আমার ক্ষতি কি বল?

জেনে রাখ একদিন ভেজা উদ্ভিদ হবো,
আমার গায়ে খেলবে অনেক ঘাসের দল,
শুনে রাখ শেষবেলা শুকনো কাঠ হবো,
আমার বুকেই জ্বলবে বিধ্বংসী দাবানল।

ভেবেছি একটু দিনে রোদ হবো,
ভাঙা মনে ছড়িয়ে দেবো আলোর দল,
জানি না কোন মাসে কালবৈশাখী হবো,
আমাকে ভোগ করবে সব পাপের ফল।

জেনে রাখ সব ছেড়ে একদিন চলে যাবো,
ভাঙবো না আর কোনোদিন কারোর মন,
শুনে রাখ পথ জুড়ে গোলাপ ছড়িয়ে যাবো,
সেদিন বসে আমার কথা ভাবিস সারাক্ষণ।

Wednesday, April 12, 2017

কবিতার ফ্রেম

মাঠ শুয়ে থাকে একা আনমনে,
প্যারালাল পথে হেঁটে চলে গেছে দুটি রেল,
চাঁদ ওঠে দূরে আকাশের কোলে,
বাকি থেকে যায় আমাদের অসফল প্রেম।

তুমি ফিরে গেছ চোখ ভেজা জলে,
বিরহের ভিড়ে জমে গেছে শহরের লেন,
আমি মিশে গেছি রোজ শব্দের দলে,
মনমরা হয়ে আছে আমার কবিতার ফ্রেম।

Monday, April 10, 2017

নদীর গান

বুকে জমে আছে পাথরের ভিড়,
একা নদী মনমরা স্রোতহীন তীর,
পথ গেয়ে ওঠে রোজ পাহাড়ের গান,
জীবনের ভারে আজ শিকলের টান।

Sunday, April 9, 2017

শহরের রীতি

মেলে ধরে থাকো রঙে ভেজা দিন,
উড়ে আসে চিঠি ভালোবাসা হীন,
পথে জমে থাকে ফেলে আশা স্মৃতি,
প্রেমে ব্যাথা পাওয়া এই শহরের রীতি।

Saturday, April 8, 2017

বসন্তের ভুল

এক মুঠো রোদে আলোকিত আশা,
এই শহরের বুকে বাড়ে ভালোবাসা।
জলে ধুয়ে যায় জমে থাকা দিন,
কচি ঘাস বাঁচে তবু পায়ে প্রাণহীন।
ধোঁয়া জমে মেঘে, আবেগের ভিড়ে,
রাত নামে একা, পাখি ফেরে নীড়ে।
প্রেমে নেশা জাগে পলাশের ফুলে,
আমি একা হেঁটে যাই বসন্তের ভুলে।

শহরের আহ্বান

ফিরে এসো তুমি শহরের বুকে,
ঠোঁট ছোঁওয়া মন প্রেমিকার মুখে
লেগে থাকে আজ বৃষ্টির জলে ভিজে।
ভালোবাসা বাকি এক কোনা ঘরে,
শুয়ে আছো তুমি ভেজা চাদরের জ্বরে
ঘুম চোখে গড়া আনমনা স্বপ্নের ব্রিজে।

Sunday, April 2, 2017

মন খারাপ

একটা গান লিখেছি গাইবে?
তোমার মন খারাপের পর্বে!

Wednesday, March 29, 2017

অসুখ

দেহ জুড়ে বিষ বাড়ে ক্রমাগত,
আয়ুরেখা ঢাকে আঙুলের ক্ষত,
ভেজা গায়ে জমে জলরাশি যত,
আমি থেকে গেছি আমারই মতো।

Monday, March 27, 2017

বসন্তের হাসি

আমার দেওয়ালে ভিড় করে জমে ভরা বসন্তের হাসি,
তাই তো তোমায় আমি রোজ ভালবাসতে ভালোবাসি।

Sunday, March 26, 2017

মনখারাপ

কপালের ভাঁজে লেখা মন খারাপি রাত,
বোকা হাসি হেসে আজ অল্প চাইবো মাফ,
তুমি কথা দিয়েছিলে বাসবে ভালো আজ,
ডায়েরির পাতা জুড়ে বোবা শব্দের রাজ।

Saturday, March 25, 2017

নালিশ

নালিশের ভিড়ে বেড়ে যায় ক্ষত,
রোজ রাতে আমি মরি ব্যক্তিগত।

Saturday, March 18, 2017

বাকি কথা

কিছু কথা বলা ছিল বাকি,
আমি রোজ ভুলে যেতে রাজি,
তাই চিৎকার করে জানি লাভ তো নাই।
তবু মনে মনে আজও লিখে রাখি,
জানি সময় এখনও অনেক বাকি,
তাই বলবো ভেবেও রোজ থেমে তো যাই।

হেঁটে গেছি প্রতি অন্ধকারে,
কে যেন আলোর রুমাল নাড়ে,
কালো মেঘ পথ জুড়ে কবিতার ভিড় বাড়ায়।
থেমে যাই অনেক বদ্ধ ঘরে,
রাত ভেঙে বেশ কিছু শব্দ ঝড়ে,
কবিতার শেষ লাইন আজও এখানেই থমকে যায়।

Wednesday, March 15, 2017

ফেরার পথে

তোমার ফিরে যাওয়ায় সমস্ত শব্দ চাপা পড়েছিল জানালার কাঁচে,
পথগুলো বসন্তকে আহ্বান করেছিলো সেই রাতে, তবু সে আসেনি,
আজ একটিবার অনুভব করে দেখো আমার দেওয়ালের প্রতিটি ভাঁজে,
সবাই কেঁদেছিল সেই রাতে, শুধু সবার সামনে চোখগুলো জলে ভাসেনি।

Saturday, March 11, 2017

প্রেমের সাক্ষ

কোনো এক শীতের রাতে অভিমানী আকাশের নীচে শুধু একটিমাত্র বার জড়িয়ে ধরতে দিও তোমায়। আমি চাই ছায়াপথে উপস্থিত প্রত্যেকটি নক্ষত্র অনন্তকাল যাবৎ বয়ে বেড়াক আমাদের ভালোবাসার সাক্ষ।

Sunday, March 5, 2017

ভেজা বসন্ত

এই ভাঙা চোরা গলি শহরের মোড়ে,
ভিজে গেছে রাত প্রেমিকার ভোরে,
বয়ে আসে চিঠি কোকিলের কোলে,
বসন্ত এসেছিলো শেষ মোঘল আমলে।

Saturday, February 25, 2017

পরজীবী প্রেম

মনে পড়ে,
একদিন তুমি পরজীবী হয়ে বাঁচতে চেয়েছিলে এই শহরে,
মনমরা এক গাছের শরীরে জড়িয়ে ফেলেছিলে তোমার ঘুম,
রোদের নাগালে তুমি উঠে চলে গিয়েছিলে এক স্বপ্নের প্রহরে,
তোমাদের চুম্বনের দৃশ্যে এখনও লেগে আছে ভালোবাসার খুন।

Thursday, February 23, 2017

মন বসন্ত

ফিরে যাওয়া তরী ফাগুন বাতাসে
নীল জলে ঢেউ খেলে,
পলাশের ফুলে মধু মেখে গায়ে
মৌমাছি ডানা মেলে।
আজ বসন্ত নেমেছে প্রেমিকার ঘরে,
খোলা চুলে মুখে আলো,
কোকিলের ডাকে মোম জ্বালি মনে,
বেসে ফেলি রোজ ভালো।

Saturday, February 18, 2017

আমি তোমাকে বেসেছি ভালো - গান

এই শহুরে আধারি গলিতে সোনালী
আকাশের চেনা আলো,
তুমি বাতাসেই ডানা মেলো।
তবু তারাদের গানে সাজানো শহরে
রাত্রেই কথা বলো,
আমি তোমাকে বেসেছি ভালো।

আমি তোমার এই মনে প্রেম জ্বালি রাতে,
তুমিও প্রেম জ্বালো,
কেন কথা দিয়ে কথা ফেলো?
তুমি চলে গেছো ছেড়ে প্রেমিকের সাথে,
ছাই ওড়ে প্রেমে কালো,
আমি তোমাকে বেসেছি ভালো।

Sunday, February 12, 2017

অচেনা তুমি

তুমি তো বেশ ভালোই আছো স্বপ্ন নিয়েই থেকো,
রাতের মাঝে সময় পেলে আমার কথাও ভেবো।

Saturday, February 11, 2017

ভ্যালেন্টাইন

প্রেমটা রূপোলী কাগজে মুড়িয়ে বাজারে বিক্রি না করে ধমনীর প্রতিটি রক্তকোষে ছড়িয়ে দেওয়াই ভালো। দেওয়ালের আঁচড়ে লিখে যাবো সমস্ত ভুল প্রমিস, অক্ষরগুলো খসে পড়বে আগামী প্রেম দিবসে।

Friday, February 10, 2017

বোবা ক্লাসরুম

এই ঘর বাতাসের গন্ধে,
কিছু রোদ জমেছে রন্ধ্রে,
শুধু সময়গুলো ধুলোয় মিলিয়ে যায়।

কিছু পুরনো ভুলের দ্বন্দ্বে,
খোলা জানালা হাওয়ার ছন্দে,
সব মাথার ভিতর স্মৃতি শুনিয়ে যায়।

গুঁড়ো চকের ধুলোয় ব্ল্যাকবোর্ডে রোদ,
সাদা, কালোর মিশেল মন ভাঙে রোজ,
পাখার ব্লেডে শব্দ ধুয়ে যায়।

আমার বন্ধ চোখের কম্পিত রোষ,
মাথার ভিতর ঘুম চোখে দোষ,
ক্লাসরুমেতেই একটু রেহাই চায়।

Tuesday, February 7, 2017

চিমনীর ধোঁওয়া

কয়লা শহরে উড়ছে ধোঁয়া একলা আকাশ সাক্ষী,
চোখের আলোয় থমকে গেছে গোপন মনের রক্ষী।

Saturday, February 4, 2017

প্রেমাশ্ম

এক পাতা প্রেম ছিল,
ছেঁড়া কাগজের ভাঁজে রঙ ছিল,
তবু হেরে যাওয়া কিছু শব্দের নীরে,
মৃত নদী ঘেরা মোহনার তীরে,
আকাশের কালো মেঘে ঢাকা আলো
নিভে গেছে জলে বৃষ্টির কোলে।

কিছু কথা দেওয়া ছিল,
ভালোবাসা ঘিরে দেহে প্রান ছিল,
তবু সময়ের ভাঁজে পুড়েছে কপাল,
বাঁধা আঁচলের কোনে মুছে দাও গাল,
হেঁটে গেছি রাতে, একা ফুটপাথে,
আজ প্রেম দেবো বলে, কাঁচভাঙা মনে।

শিকল

এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে বিকেলে,
শুক্রের আলোয় ঝলমলে ধানখেতের ভেজা ঘাস,
কফি কাপে ভিজে গেছে মন সন্ধ্যার আলাপে,
টানা চোখের কাজলেই অচেনা থাক আমার ক্রাশ।

Wednesday, February 1, 2017

প্রেমিকা তোমায় দিলাম

পূজার সকাল প্রেমের মেজাজ,
ধুনোর গন্ধে মজেছে শহর,
শাড়ির সুতোয় প্রেমিকা আমার
রুপে গুনে খাঁটি মোহর।

Friday, January 27, 2017

প্রেমের ক্ষেত্রফল

তোর দেওয়াল জুড়ে গল্প আমার,
দিনের আলোয় রাত বাকি,
প্রেম বৃত্তের ক্ষেত্রফলে
অসীম ব্যাসের গ্রাফ আঁকি।

Tuesday, January 24, 2017

শহরের সাজঘর

শহরের সাজঘরে জমে একা
হেঁটে যাওয়া ঘুমে তোমার সঙ্গে দেখা,
ফিরে গেছে তরী, নেমে আসে পরী,
জলে ভেজা শীতে আমাদের স্মৃতি আঁকা।

Sunday, January 22, 2017

আবেগ মন্ত্র

আজ আকাশের কান্না বুকে জমছে অভিমান,
প্রেমিকা তাই প্রেমের খাতায় বাড়ায় ব্যাবধান,
ভালো থাকার মন্ত্র পড়ে, বাঁচতে চাইছি রোজ,
কলম খুঁচিয়ে আবেগের ভিড়ে করছি শব্দের খোঁজ।

Saturday, January 14, 2017

ন্যাচারাল

হাওয়া বয়ে যায় শহরের রাতে,
ঘড়ি মাপে রাত, সময়ের হাতে,
জোনাকিরা কাঁদে একা মাঝরাতে,
ফিরে আসে প্রেম চিঠি লেখা হাতে।

ভালোবাসা লাগে প্রেমিকার কাঁধে,
আকাশের হাসি জ্যোৎস্নার চাঁদে,
চলে গেছে শীত, বলে গেছে কাকে?
তুমি আমি আজও হাঁটি ফুটপাথে।

সমাজ

রাজপথে আজ নাঙ্গা সাধু
মানুষ তাকে ভক্তি করে,
মেয়ের বস্ত্র ছোট হলেই
তার চরিত্রে দাগ পড়ে।

এই সমাজেই বাড়ছি আমি
ভয় লাগে খুব ভায়া,
চোখ বুজে আর দেখবো কদিন
পুরুষতন্ত্রের ছায়া।

Monday, January 9, 2017

আরও শীত

সূর্যটা মুখ ঢাকে খেঁজুরের দেশে,
রসগোল্লা গুড় মাখে নলেন ছদ্মবেশে।

Saturday, January 7, 2017

সাঁঝ গল্প

সন্ধ্যাতারা প্রহর গোনে
গল্প শোনায় ঝাড়বাতি,
রক্ত রবি অস্ত গেলে
জোনাকি জ্বালায় সাঁঝবাতি।

Friday, January 6, 2017

বর্ষবরণ

একটি মানুষ একলা ফেরে
বর্ষবরণ রাতে,
সমাজ তাকে স্পর্শ করে
পোশাকের অজুহাতে।

নারী বলে মানুষ না ভেবে
ভাবছো খেলার পুতুল,
এখনও বলছি সময় আছে,
শুধরে নিও ভুল।

দেখবে যেদিন হাজার নারী
নামবে রাস্তা জুড়ে,
সেদিন কিন্তু পার পাবে না
লুকিয়ো মাটি খুঁড়ে।

Tuesday, January 3, 2017

উল্কারাত

এই সন্ধ্যায় পাহাড় ঘুমায়, তারায় ভিজে রাত নামে,
ঘাসের নীচে ডাকছে ঝিঝি, আকাশ তোমার ডাকনামে।
নিঝুম রাতের উল্কা খসে অন্ধকারের হাত ধরে,
দুইটি মানুষ স্বপ্ন দেখে চোখের তারায় ভর করে।

গাছের গুঁড়ি স্নেহয় জড়ায়, ছায়ার নীচের ঘুম জানে,
এই পৃথিবী নিয়ম মেনেই ভরছে খুশী তোর খামে।
সময় পেলেই চাইবো আমি উল্কা খসা এক ভোরে,
তোরই সাথে থাকবো আমি জীবন স্রোতের সব মোড়ে।